ATN
শিরোনাম
  •  

বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত: স্বজনদের আহাজারিতে ভারী শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতাল

         
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত: স্বজনদের আহাজারিতে ভারী শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতাল

বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত: স্বজনদের আহাজারিতে ভারী শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতাল

ভোরের আলো ফোটার আগেই জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তারা। কেউ কৃষিজমিতে কাজ করতে, কেউ দিনমজুরের কাজের আশায় এসেছিলেন বগুড়ার এরুলিয়ার কামলার হাটে। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সব স্বপ্ন থেমে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে প্রাণ হারান সাতজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। দুর্ঘটনার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের করিডোরজুড়ে ছিল স্বজন হারানোর কান্না আর আহাজারি। একের পর এক মরদেহ দেখে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

নিহত আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তার স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, আবার কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, “আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?” পাশে থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সান্ত্বনাই যেন তার শোক কমাতে পারছিল না।

আবু সাঈদ ও আমিরুলের স্বজন সানাউল প্রধান জানান, দুজনই দিনমজুর ছিলেন। আবু সাঈদের ছয় সদস্যের পরিবারের পুরো দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। অন্যদিকে আমিরুল ছিলেন ভূমিহীন। এক শতক জমির ওপর ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

নিহত নূর মোহাম্মদের ভাতিজা আল আমিন বলেন, ফজরের নামাজ আদায় করে প্রতিদিনের মতোই কৃষি শ্রমিকের কাজের আশায় কামলার হাটে গিয়েছিলেন তার চাচা। কিন্তু সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

কৃষি শ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ভোর ৫টার পর থেকেই এরুলিয়ার কামলার হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা জড়ো হন। সেখান থেকে কৃষিজমির মালিকরা প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নিয়ে যান। নিহত ও আহতদের অনেকেই জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে থাকতেন।

তিনি বলেন, “প্রতিদিনের মতো আমারও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটু দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যাই। পরে গিয়ে দেখি চারদিকে রক্তাক্ত মানুষ আর আর্তনাদ। তখন আহতদের উদ্ধারে অন্যদের সঙ্গে আমিও যোগ দিই।”

আরেক শ্রমিক মোশাররফ হোসেন সরকার বলেন, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক এই হাটে কাজের আশায় আসেন। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ৭০০ টাকা। সেই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে অসংখ্য নিম্নআয়ের পরিবারের জীবন-জীবিকা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।

নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) এবং জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)। ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ