শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালার আওতায় শব্দদূষণ রোধে পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন ব্যবহার, উচ্চ শব্দ তৈরি বা শব্দদূষণের বিধি লঙ্ঘন করলে সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই জরিমানা করতে পারবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শব্দদূষণের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট মোটরযান আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষ, যানবাহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন বিধিমালার খসড়ায় শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এলাকাভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এলাকাভেদে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ অনুমোদিত।
আবাসিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল ও রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল ও রাতে ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল ও রাতে ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি রয়েছে।
এর বেশি শব্দ সৃষ্টি হলে তা শব্দদূষণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ হচ্ছে উচ্চ শব্দের হর্ন ও আতশবাজি
বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ তৈরি করে এমন কোনো হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রি, বাজারজাত, পরিবহন বা ব্যবহার করা যাবে না।
নীরব এলাকায় সব ধরনের হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে পটকা, আতশবাজি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন অন্যান্য কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া মাইক, লাউডস্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম বা উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না এবং এসব যন্ত্র সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে।
ভারী যন্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ
আবাসিক এলাকা এবং এর আশপাশের ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ইট ও পাথর ভাঙার যন্ত্র, পাইলিং মেশিন, কংক্রিট মিক্সারসহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলেও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার, পটকা ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগ করতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্তরা
নতুন বিধিমালার আওতায় শব্দদূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি টেলিফোন, লিখিত আবেদন, ই-মেইল বা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শব্দদূষণকারী যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সরাসরি ক্ষমতা দেওয়াই নতুন বিধিমালার বড় পরিবর্তন। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ প্রায় ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তাদের শব্দের মাত্রা পরিমাপের জন্য সাউন্ড লেভেল ডিটেক্টরও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী শব্দদূষণের দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, এতদিন আইন থাকলেও এর প্রয়োগ সীমিত ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের হাতে ক্ষমতা দেওয়ায় এখন আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।
তবে তিনি উচ্চ শব্দের হর্নের আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং পরিবহন খাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শব্দদূষণের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট মোটরযান আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষ, যানবাহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন বিধিমালার খসড়ায় শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এলাকাভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এলাকাভেদে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ অনুমোদিত।
আবাসিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল ও রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল ও রাতে ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল ও রাতে ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি রয়েছে।
এর বেশি শব্দ সৃষ্টি হলে তা শব্দদূষণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ হচ্ছে উচ্চ শব্দের হর্ন ও আতশবাজি
বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ তৈরি করে এমন কোনো হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রি, বাজারজাত, পরিবহন বা ব্যবহার করা যাবে না।
নীরব এলাকায় সব ধরনের হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে পটকা, আতশবাজি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন অন্যান্য কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া মাইক, লাউডস্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম বা উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না এবং এসব যন্ত্র সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে।
ভারী যন্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ
আবাসিক এলাকা এবং এর আশপাশের ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ইট ও পাথর ভাঙার যন্ত্র, পাইলিং মেশিন, কংক্রিট মিক্সারসহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলেও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার, পটকা ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগ করতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্তরা
নতুন বিধিমালার আওতায় শব্দদূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি টেলিফোন, লিখিত আবেদন, ই-মেইল বা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শব্দদূষণকারী যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সরাসরি ক্ষমতা দেওয়াই নতুন বিধিমালার বড় পরিবর্তন। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ প্রায় ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তাদের শব্দের মাত্রা পরিমাপের জন্য সাউন্ড লেভেল ডিটেক্টরও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী শব্দদূষণের দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, এতদিন আইন থাকলেও এর প্রয়োগ সীমিত ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের হাতে ক্ষমতা দেওয়ায় এখন আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।
তবে তিনি উচ্চ শব্দের হর্নের আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং পরিবহন খাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
