ATN
শিরোনাম
  •  

৫ আগস্ট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন: তারেক রহমান

         
৫ আগস্ট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন: তারেক রহমান

৫ আগস্ট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন: তারেক রহমান

৫ আগস্টকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি; সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।

তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষ নির্যাতন, গুম, খুন, অপহরণ, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে দেশে শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটক রাখা হয় এবং অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা এবং দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করার অভিযোগও করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও নারীরা একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।

তিনি বলেন, রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ অনেক শহীদের আত্মত্যাগ আন্দোলনে সাহস জুগিয়েছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। তিনি দাবি করেন, ওই দিনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

বাণীতে তিনি দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী এবং তাদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা বা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ