ATN
শিরোনাম
  •  

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

         
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

নেত্রকোণার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযুক্তের পরিবার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে পাশের বাড়ির এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে রিপন মিয়াকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সালিশে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে রিপন মিয়া স্বীকারোক্তি দেওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিয়ের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা প্রদান অথবা তার বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহিরাগত ও ভাড়াটিয়া হিসেবে সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রিপন এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি নথি বা আদালতের রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রিপন মিয়ার স্ত্রী অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং একটি গাছের নিচে কয়েক মিনিট কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতন বা যৌন অপরাধের অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে টাকা জরিমানা করে মীমাংসা করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।

উল্লেখ্য, রিপন মিয়া একজন পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ২০১৬ সালে ফেসবুকে ভিডিও নির্মাণ শুরু করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার মুখে প্রচলিত সংলাপ—‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ