ATN
শিরোনাম
  •  

সৌদি যুবরাজের আহ্বানে ইরানে নতুন হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

         
সৌদি যুবরাজের আহ্বানে ইরানে নতুন হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

সৌদি যুবরাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পকে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেন। তিনি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সব পক্ষকে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তবে এর আগের দিনই ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। পরে তিনি দাবি করেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধেই হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করার দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজের প্রধান উদ্বেগ ছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধার হুমকি দেয়।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌ, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

এদিকে ইসলামাবাদ ও দোহার মধ্যস্থতাকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, স্থগিত থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় শুরু হতে পারে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ