প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু, কক্সবাজারে নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি ও দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হলেও, একের পর এক দুর্ঘটনায় এ বিনোদনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত দুই বছরে অন্তত ১০ জন পর্যটক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার (১ আগস্ট) প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শৌভিক রায় (৩০) খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে দরিয়ানগরের ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর একটি রাইডে অংশ নেওয়ার সময় উড্ডয়নের একপর্যায়ে তিনি নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই তার মরদেহ খুলনায় পাঠানো হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শৌভিকের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট একই এলাকায় একটি প্যারাসেইলিং রাইড থেকে ছিটকে এক পর্যটক ঝাউগাছে আটকে যান। ওই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ করলেও পরে তা আবার চালু হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ২০ মে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করে একসঙ্গে দুইজনকে উড্ডয়ন করানোর সময় সমুদ্রে পড়ে আহত হন এক নারী পর্যটক। সে সময় একটি প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম জব্দ এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিয়ানগর ও হিমছড়িতে বর্তমানে পরিচালিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই ব্যবহৃত হারনেস, লাইফ জ্যাকেট, রশি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত অপারেটর, আধুনিক উদ্ধার নৌযান, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও অনেক সময় রাইড চালু রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১০ মিনিটের একটি প্যারাসেইলিং রাইডের জন্য দেড় হাজার থেকে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক এই সেবা গ্রহণ করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসেই প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্যারাসেইলিং পরিচালিত হচ্ছিল। পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, দুর্ঘটনার পর সাময়িক অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নীতিমালা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, বাধ্যতামূলক বীমা, নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
নিহত শৌভিক রায় (৩০) খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে দরিয়ানগরের ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর একটি রাইডে অংশ নেওয়ার সময় উড্ডয়নের একপর্যায়ে তিনি নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই তার মরদেহ খুলনায় পাঠানো হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শৌভিকের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট একই এলাকায় একটি প্যারাসেইলিং রাইড থেকে ছিটকে এক পর্যটক ঝাউগাছে আটকে যান। ওই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ করলেও পরে তা আবার চালু হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ২০ মে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করে একসঙ্গে দুইজনকে উড্ডয়ন করানোর সময় সমুদ্রে পড়ে আহত হন এক নারী পর্যটক। সে সময় একটি প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম জব্দ এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিয়ানগর ও হিমছড়িতে বর্তমানে পরিচালিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই ব্যবহৃত হারনেস, লাইফ জ্যাকেট, রশি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত অপারেটর, আধুনিক উদ্ধার নৌযান, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও অনেক সময় রাইড চালু রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১০ মিনিটের একটি প্যারাসেইলিং রাইডের জন্য দেড় হাজার থেকে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক এই সেবা গ্রহণ করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসেই প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্যারাসেইলিং পরিচালিত হচ্ছিল। পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, দুর্ঘটনার পর সাময়িক অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নীতিমালা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, বাধ্যতামূলক বীমা, নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
