ATN
শিরোনাম
  •  

নওগাঁয় সুগন্ধি চালের দামে আগুন, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

         
নওগাঁয় সুগন্ধি চালের দামে আগুন, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

নওগাঁয় সুগন্ধি চালের দামে আগুন, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

দেশের অন্যতম বৃহৎ চাল উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র নওগাঁয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সুগন্ধি (আতপ) চালের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আতপ চালের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা। একই সঙ্গে কাটারিসহ বিভিন্ন ধরনের সরু চালের দামও কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

নওগাঁ শহরের বৃহত্তম খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত তিন সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সরু চালের দাম বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কাটারি চালের শর্টার ও নন-শর্টার উভয় ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৭৬ টাকা। স্বর্ণা-৫ চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা এবং বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে।

তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে সুগন্ধি আতপ চালে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এমন মূল্যবৃদ্ধি অতীতে কখনও দেখা যায়নি।

বাজারে চাল কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকার বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৩ কেজি আতপ চাল কিনতে এসে কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেন উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুক। তিনি বলেন, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চাল কেনা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতিতে বিব্রত। নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, চার দশকের ব্যবসায়িক জীবনে আতপ চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি কখনও দেখেননি। প্রতিদিনই ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করছেন, বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মজুতের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

মফিক উদ্দিন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার কয়েক মাস ধরে আতপ চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়েছে। ফলে দেশীয় বাজারে আতপ চালের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাটারিসহ অন্যান্য সরু চালের ওপরও।

নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ সঠিক নয়। বরং ধানের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে হাটে কাটারি ধানের দাম প্রতি মণ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং আতপ ধানের দাম ৩ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এদিকে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার জানান, আতপ চাল রপ্তানির প্রভাবেই বাজারে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। জেলার প্রায় সাড়ে ৪৫০টি অটোমেটিক ও হাসকিং রাইস মিলে নিয়মিত নজরদারি চলছে। অবৈধ মজুত ঠেকাতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

চালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ