তিন বিশ্বকাপের হতাশা কাটাতে আবারও ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি
টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়া ইতালি জাতীয় ফুটবল দলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রবার্তো মানচিনি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জিওভান্নি মালাগো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে জাতীয় দলের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ক্লডিও রানেইরিকে। তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন রবার্তো মালদিনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, মানচিনিকে প্রধান কোচ করা হলে মালদিনি পদত্যাগ করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মালাগো বলেন, “আজ আমাদের নতুন একজন প্রধান কোচ এবং নতুন একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বুধবার মানচিনি ও রানেইরিকে নিয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “সবদিক বিবেচনা করে আমি মনে করেছি, ইতালি জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত। বরাবরের মতো এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিজেই নিচ্ছি।”
মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হারের পর প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেন্নারো গাত্তুসো।
৬১ বছর বয়সী মানচিনি এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালির দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনেই ইতালি ইউরো ২০২০-এর শিরোপা জেতে এবং টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে।
সাবেক কোচ এন্টোনিও কন্টের পরিবর্তে এবারও মানচিনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, কন্টেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মালদিনি পদত্যাগ করতেন। তিনি দায়িত্বে দেখতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেক ইতালি মিডফিল্ডার থিয়াগো মোত্তাকে।
কোচ হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন আন্দ্রে পিরলো সোমবার ঘোষণা দেন, তিনি আর এই পদের দৌড়ে নেই। রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিতর্কিত সম্পর্ক এবং সীমিত কোচিং অভিজ্ঞতার কারণে সাবেক এই মিডফিল্ডার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
ইউরো ২০২০ জয়ের সাফল্য সত্ত্বেও মানচিনির পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরব জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তিনি ইতালির কোচের পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন, যা এফআইজিসির অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়েছিল। বিশেষ করে তখন ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্বে ইতালির পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। যদিও সৌদি আরবের দায়িত্বও তিনি মাত্র ১৪ মাস পর ছেড়ে দেন।
সবশেষ তিনি কাতারের ক্লাব আল-সাদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের নভেম্বরে ক্লাবটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছিলেন তিনি। এখন মানচিনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ইতালিকে আবারও ফিরিয়ে আনা।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১৪ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। ২০০৬ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দলটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও আর কোনো ম্যাচ খেলেনি। এই সময়ে তাদের একমাত্র বড় সাফল্য ছিল পাঁচ বছর আগে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা।
লুসিয়ানো স্পালেত্তির অধীনে ইউরো শিরোপা ধরে রাখার অভিযানও ব্যর্থ হয়। ২০২৪ সালের আসরের শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় ইতালি। ক্লাব ফুটবলেও মানচিনির সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ইন্টার মিলানের দায়িত্বে থেকে তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে টানা তিনটি সিরি আ শিরোপা জিতেছিলেন।
এরপর ২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সকে (কিউপিআর) নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ১৯৬৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ লিগ শিরোপা এনে দেন তিনি।
এটিএন নিউজ / মা.ই.স
একই সঙ্গে জাতীয় দলের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ক্লডিও রানেইরিকে। তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন রবার্তো মালদিনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, মানচিনিকে প্রধান কোচ করা হলে মালদিনি পদত্যাগ করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মালাগো বলেন, “আজ আমাদের নতুন একজন প্রধান কোচ এবং নতুন একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বুধবার মানচিনি ও রানেইরিকে নিয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “সবদিক বিবেচনা করে আমি মনে করেছি, ইতালি জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত। বরাবরের মতো এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিজেই নিচ্ছি।”
মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হারের পর প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেন্নারো গাত্তুসো।
৬১ বছর বয়সী মানচিনি এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালির দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনেই ইতালি ইউরো ২০২০-এর শিরোপা জেতে এবং টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে।
সাবেক কোচ এন্টোনিও কন্টের পরিবর্তে এবারও মানচিনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, কন্টেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মালদিনি পদত্যাগ করতেন। তিনি দায়িত্বে দেখতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেক ইতালি মিডফিল্ডার থিয়াগো মোত্তাকে।
কোচ হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন আন্দ্রে পিরলো সোমবার ঘোষণা দেন, তিনি আর এই পদের দৌড়ে নেই। রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিতর্কিত সম্পর্ক এবং সীমিত কোচিং অভিজ্ঞতার কারণে সাবেক এই মিডফিল্ডার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
ইউরো ২০২০ জয়ের সাফল্য সত্ত্বেও মানচিনির পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরব জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তিনি ইতালির কোচের পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন, যা এফআইজিসির অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়েছিল। বিশেষ করে তখন ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্বে ইতালির পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। যদিও সৌদি আরবের দায়িত্বও তিনি মাত্র ১৪ মাস পর ছেড়ে দেন।
সবশেষ তিনি কাতারের ক্লাব আল-সাদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের নভেম্বরে ক্লাবটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছিলেন তিনি। এখন মানচিনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ইতালিকে আবারও ফিরিয়ে আনা।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১৪ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। ২০০৬ সালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দলটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও আর কোনো ম্যাচ খেলেনি। এই সময়ে তাদের একমাত্র বড় সাফল্য ছিল পাঁচ বছর আগে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা।
লুসিয়ানো স্পালেত্তির অধীনে ইউরো শিরোপা ধরে রাখার অভিযানও ব্যর্থ হয়। ২০২৪ সালের আসরের শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় ইতালি। ক্লাব ফুটবলেও মানচিনির সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ইন্টার মিলানের দায়িত্বে থেকে তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে টানা তিনটি সিরি আ শিরোপা জিতেছিলেন।
এরপর ২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সকে (কিউপিআর) নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ১৯৬৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ লিগ শিরোপা এনে দেন তিনি।
এটিএন নিউজ / মা.ই.স
