ATN
শিরোনাম
  •  

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর বিস্তার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণের ধরণ

         
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর বিস্তার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণের ধরণ

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর বিস্তার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণের ধরণ

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নতুন চিত্র তৈরি করছে। গত বছর বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে আলোচনায় থাকলেও চলতি বছর সংক্রমণের কেন্দ্র বদলে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায়। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে পাঁচজনের।

বরগুনার বেতাগীর কলেজ শিক্ষার্থী পলাশ পরপর দুই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার মা জানান, এলাকায় ময়লা-আবর্জনা, অপরিকল্পিত পরিবেশ ও জমে থাকা পানির কারণে বারবার ডেঙ্গুর শিকার হচ্ছেন মানুষ।

একই পরিস্থিতি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির তরুণ মুরসালিনের। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। তার অভিযোগ, পৌর এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

শুধু পলাশ বা মুরসালিন নয়, প্রতিদিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভিড় করছেন ডেঙ্গু রোগীরা। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছিল। ওই বছর মারা যান ৪৫ জন। বরগুনাকে ঘোষণা করা হয়েছিল ডেঙ্গুর হটস্পট। তবে চলতি বছর সংক্রমণের ধরণ পাল্টে গেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন।

জেলা ভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে পিরোজপুরে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরপর ঝালকাঠিতে ৯৪৪ জন, বরিশালে ৪৬৪ জন, বরগুনায় ৪১৪ জন, পটুয়াখালীতে ৪১৪ জন এবং ভোলায় ১৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫ জন রোগী।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে ভর্তি হয়েছেন ১৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী। বিভাগের পাঁচ মৃত্যুর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালেই। সর্বশেষ ২৫ জুলাই রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার রূপালী আক্তার (২৬) এবং এর আগের দিন নলছিটির মুন্নি আক্তার (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৯৫ জন রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) জরিপে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক বাস্তবতা ও পরিবেশগত সমস্যাকে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে এবং পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, বর্ষাকালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি স্বাভাবিক। রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মেডিসিন ইউনিট চারটি থেকে ছয়টিতে উন্নীত করা হয়েছে। পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড না থাকলেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু কর্নার চালু রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, এবার গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। শুধু মশক নিধন কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে সবাইকে নিজেদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আগেই পরিকল্পিত মশক নিধন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। সংক্রমণের স্থান ও ধরন পরিবর্তন হওয়া ভবিষ্যতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ