পাবনায় ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ড: বিচার প্রত্যাশায় স্বজনরা, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ
পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের শহীদ চত্বরে ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় নিহতদের পরিবারকে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দুই বছর ধরে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত দুই শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম (১৯) ও মাহবুবুল হোসেন নিলয়ের (১৬) পরিবার। তবে তাদের অভিযোগ, হত্যা মামলার অনেক আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এবং কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পাবনার ট্রাফিক মোড়ে (বর্তমানে শহীদ চত্বর) গুলিতে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম ও মাহবুবুল হোসেন নিলয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের সামনে থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন ট্রাফিক মোড়ে। দুপুরের দিকে সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
নিহত জাহিদের বাবা দুলাল উদ্দিন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেনসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগের ১৩৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার আসামিদের বর্তমান অবস্থা, গ্রেপ্তার, জামিন ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাবনা সদর থানার পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার বলেন, “গ্রেপ্তার, জামিন বা কারাগারে থাকা আসামিদের বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। কোর্ট বিষয়গুলো জানে। তবে প্রায় ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”
বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন। আমার জানা নেই।”
পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল বলেন, “পাবনায় শুধু এই হত্যা মামলার চার্জশিট হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্য মামলাগুলোর মধ্যে আমিনপুরের একটি মামলার চার্জশিট হয়েছে, বাকিগুলোর হয়নি।”
নিহত জাহিদের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, “আমি ৫ আগস্টের পর বাদী হয়ে মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার তেমন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আসামিদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার তিন ছেলে আন্দোলনে যেত। নিষেধ করার পরও তারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ৪ আগস্ট দুপুরের দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে, জানানো হয় জাহিদ মারা গেছে।”
জাহিদের ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হয়েছে। কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বের হয়ে গেছে। এখন আমরা শহীদ পরিবার ও আহতরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমরা শুধু সঠিক বিচার চাই।”
জাহিদের প্রতিবেশী ও সহযোদ্ধা মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা প্রতিদিন একসঙ্গে আন্দোলনে যেতাম। ৪ আগস্টও একসঙ্গে বের হয়েছিলাম। সবাই ফিরলেও জাহিদ আর ফেরেনি। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”
নিহত নিলয়ের মা বলেন, “আমি সবসময় সন্তানদের ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলনে যেতে উৎসাহ দিতাম। কিন্তু কখনো ভাবিনি আমার সন্তান শহীদ হবে। আমার একটাই দাবি, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের বিচার হোক।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সাবেক আহ্বায়ক বরকতউল্লাহ ফাহাদ বলেন, “হত্যা মামলার আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। তারা শহীদ পরিবারের পাশাপাশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদেরও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, “প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, “আমি অল্প কিছুদিন হলো পাবনায় যোগ দিয়েছি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করেই শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পাবনার ট্রাফিক মোড়ে (বর্তমানে শহীদ চত্বর) গুলিতে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম ও মাহবুবুল হোসেন নিলয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের সামনে থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন ট্রাফিক মোড়ে। দুপুরের দিকে সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
নিহত জাহিদের বাবা দুলাল উদ্দিন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেনসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগের ১৩৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার আসামিদের বর্তমান অবস্থা, গ্রেপ্তার, জামিন ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাবনা সদর থানার পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার বলেন, “গ্রেপ্তার, জামিন বা কারাগারে থাকা আসামিদের বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। কোর্ট বিষয়গুলো জানে। তবে প্রায় ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”
বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন। আমার জানা নেই।”
পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল বলেন, “পাবনায় শুধু এই হত্যা মামলার চার্জশিট হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্য মামলাগুলোর মধ্যে আমিনপুরের একটি মামলার চার্জশিট হয়েছে, বাকিগুলোর হয়নি।”
নিহত জাহিদের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, “আমি ৫ আগস্টের পর বাদী হয়ে মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার তেমন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আসামিদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার তিন ছেলে আন্দোলনে যেত। নিষেধ করার পরও তারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ৪ আগস্ট দুপুরের দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে, জানানো হয় জাহিদ মারা গেছে।”
জাহিদের ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হয়েছে। কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বের হয়ে গেছে। এখন আমরা শহীদ পরিবার ও আহতরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমরা শুধু সঠিক বিচার চাই।”
জাহিদের প্রতিবেশী ও সহযোদ্ধা মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা প্রতিদিন একসঙ্গে আন্দোলনে যেতাম। ৪ আগস্টও একসঙ্গে বের হয়েছিলাম। সবাই ফিরলেও জাহিদ আর ফেরেনি। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”
নিহত নিলয়ের মা বলেন, “আমি সবসময় সন্তানদের ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলনে যেতে উৎসাহ দিতাম। কিন্তু কখনো ভাবিনি আমার সন্তান শহীদ হবে। আমার একটাই দাবি, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের বিচার হোক।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সাবেক আহ্বায়ক বরকতউল্লাহ ফাহাদ বলেন, “হত্যা মামলার আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। তারা শহীদ পরিবারের পাশাপাশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদেরও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, “প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, “আমি অল্প কিছুদিন হলো পাবনায় যোগ দিয়েছি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করেই শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
