গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান
জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিবর্তনের জন্য গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা পাশ কাটিয়ে সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করা হবে, আরেকটি প্রত্যাখ্যান করা হবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে ধারাবাহিক সহিংসতার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান।
জামায়াত আমীর বলেন, দল নিষিদ্ধ ঘোষণার আগে ছাত্রদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও জনগণ ও নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অভিযান পরিচালনা করায় জুলাইয়ের নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আহত ও পঙ্গুদের যথাযথ খোঁজ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। শহীদ ও আহত পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়কে বিএনপি অপমান করেছে—এর প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে জনগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এর সমাধান করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনদাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন।” ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের আওতায় আসতে হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বাস।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, রুকন হিসেবে যারা শপথ নিয়েছেন, তাদের সেই শপথ রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যেতে চায়।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় জনগণ সন্তুষ্ট নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতে ইসলামীকে বিকল্প সৎ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন একটি দায়িত্ব। ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হলে নিজেদের চরিত্র ও কর্মকাণ্ড আরও উন্নত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সদস্যদের আদর্শিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, অ্যাডভোকেট মসিউল আলম, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সালামের দারসুল কুরআনের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। এতে ঢাকা জেলার প্রায় সকল পুরুষ ও নারী রুকন উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করা হবে, আরেকটি প্রত্যাখ্যান করা হবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে ধারাবাহিক সহিংসতার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান।
জামায়াত আমীর বলেন, দল নিষিদ্ধ ঘোষণার আগে ছাত্রদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও জনগণ ও নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অভিযান পরিচালনা করায় জুলাইয়ের নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আহত ও পঙ্গুদের যথাযথ খোঁজ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। শহীদ ও আহত পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়কে বিএনপি অপমান করেছে—এর প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে জনগণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এর সমাধান করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনদাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন।” ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের আওতায় আসতে হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বাস।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, রুকন হিসেবে যারা শপথ নিয়েছেন, তাদের সেই শপথ রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যেতে চায়।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় জনগণ সন্তুষ্ট নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতে ইসলামীকে বিকল্প সৎ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন একটি দায়িত্ব। ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হলে নিজেদের চরিত্র ও কর্মকাণ্ড আরও উন্নত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সদস্যদের আদর্শিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, অ্যাডভোকেট মসিউল আলম, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সালামের দারসুল কুরআনের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। এতে ঢাকা জেলার প্রায় সকল পুরুষ ও নারী রুকন উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
