ATN
শিরোনাম
  •  

রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

         
রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

সত্তর ভাগ মানুষের রায়ের পরও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছে। এক কোটি কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিলেও সরকার এখনো ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারেনি। বরং তারা বিভিন্ন পদে দলীয় কোটায় নিয়োগ দিচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) সেমিনার হলে বক্তারা এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল ইঙজিনিয়ার্স এলায়েন্স অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ বিশেষত শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান’ আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর ফেলো এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজো, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং কুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ। কোরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সমস্বরে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান তিনটি কারণে ইউনিক। প্রথমত, এটি একটি নিরস্ত্র বিপ্লব ছিল। নিরস্ত্র ছেলেমেয়েরা দাড়িয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এই বিপ্লবে কোনো বিদেশী শক্তি সহায়তা করেনি। যেটি আমাদের মুক্তিয়াযুদ্ধের একটি দুর্বলতা ছিল। মুক্তিযুদ্ধে আমাদেরকে ভারত থেকে সহায়তা নিতে হয়েছিল। আজও তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না। তারা বলে, একাত্তর আসলে তারা পাকিস্তানকে পরাজিত করে দুভাগ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, এখানে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। এখানে সবাই নেতা, সবাই যোদ্ধা। এগুলো স্মরণে রাখলে বুঝি, এই বিপ্লব দীর্ঘায়িত হবে। ব্যর্থ হবে না।

মাহমুদুর রহমান জুলাই অভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হয়। আমার দৃষ্টিতে জুলাই একটি বিপ্লব এবং এটি চলমান রয়েছে। কারণ এটি পুরো রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের জন্য হয়েছে। বক্তব্যে জুলাইয়ের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সংকটের জায়গা কয়েকটি জায়গায়। এখানে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ক্ষমতাপাগল হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক দলগুলো ইন্ডিয়াপাগল হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের যে সংকটটা রয়ে গিয়েছে, এখানে কেউ ভালো মানুষ হলে ডিসিশন মেকিং প্রসেসে যেতে পারে না। আর যদি কেউ খারাপ মানুষ হয়, আমরা ভালো কোনো ডিসিশন তার থেকে আশা করতে পারি না। এই অবস্থা থেকে উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি সেটার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, তারেক রহমান হয়তো পচা জিনিসগুলো পরিষ্কার করবেন। পরিষ্কার করে উনি একটু ফ্রেশ জায়গায় থাকবেন। কিন্তু গত ৫ মাসে আমাদের উপলব্ধি হলো, যে পচা ফলের সাথে উনি তো সেগুলো তো পরিষ্কার করলেনই না, সেই পচা ফলের উপরে উনি শুয়ে থাকলেন। তো তারেক রহমান এবং তার যে হাওয়া ভবনের যে কিচেন কেবিনেট এবং তার যে ভাইবেরাদারদের যে কোরাম রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করল, সব পচা আপেল একসাথ হল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনে আমি বারবার বলেছি, এমনকি আমি সালাহউদ্দিনের সাহেবের বাসায় গিয়েও বলেছি, আপনি কেন সংস্কারের পক্ষে আসছেন না? উনি বললেন যে, যে সংস্কারের পক্ষে যদি আমি আসি, তাহলে যে সরকার চালাতে পারব না। সরকারের কাছে ক্ষমতা থাকবে না। কিছু ক্ষমতা চলে যাবে বিরোধী দলের কাছে, কিছু ক্ষমতা চলে যাবে মিডিয়ার কাছে, কিছু ক্ষমতা চলে যাবে হলো বিচারালয়ের। আমি বললাম, এটাই তো হলো বাংলাদেশ। আপনি তাহলে বাংলাদেশের এটা ভিন্ন কোন জিনিসটা নিয়ে আসছেন?' তিনি বললেন, যেভাবেই বাপ-দাদারা চালিয়েছে, এভাবেই চালাতে হবে। তাহলে ১৭ বছর ধরে ৩১ দফার ভেল্কিভাজি কেন দেখাল, এই কথা বললে তারা গরম হয়ে যায়।

আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সরকারের প্রথম মাসে সরকার আমাদের সামনে বিভিন্ন গল্পগাথা উপস্থাপন করছেন। কিন্তু বিএনপি যে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের যে রাজনীতি সেটির ধারাবাহিকতা সেটা আমরা জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি থেকে দেখতে পাচ্ছি। ১৯৯১ সালে তিন জোটের রূপরেখা থেকে পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না মানা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নিজেদের মন্ত একজনকে রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির মেয়াদ দুবছর বাড়িয়ে তারা জাতির সাথে প্রতারণা করেছেন। বিএনপি মুখে মুখে সংস্কারের কথা বললেও তাদের অন্তরে ক্ষমতার চেয়ার এবং একক কতৃত্ব নেয়ার বাসনা। গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দিতে বিএনপি উঠেপড়ে লেগেছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরি করা একটা অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমাদের রাষ্ট্রটা যে সরকারেই আসুক মেধাভিত্তিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হল রাষ্ট্র এখনো কোটাভিত্তিক। এখন বিএনপির দলীয় কোটাভিত্তিক বাংলাদেশ চলছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান কি কোনো দলীয় শাখা? বিএনপি আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় শাখা পরিণত করা হচ্ছে মনে হচ্ছে।

মারদিয়া মমতাজ এমপি বলেন, আমাদের জন্য যেখানে আইন বানানো হয়, সেখানে যেতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। আরও অপমানজনক হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা মিনিমাম লেভেল বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। আমরা যখন বিরোধীদল হিসেবে একটা বিল পাস হওয়ার ২০ মিনিট আগে টেবিলে দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলি, তখন সেটি সরকারি দলের কাছে হাস্যকর মনে হয়।

প্রফেসর ড. মাকসুদ হিলালী বলেন, উনসত্তরের আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপরের সবকিছু আমি চোখে দেখেছি। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর সকল কিছু আমার চোখে দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের শেষে আমরা দেশ স্বাধীন বলছি, আসলে কি স্বাধীন হয়েছিল? পাকিস্তান আর্মি ইন্ডিয়ান আর্মির মধ্যে আত্মসমর্পণ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে প্রধান সেনাপতিকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তাহলে স্বাধীনতা কে কাকে দিল? স্বাধীনতার পরে আমি ঢাকায় এসেছি। নিজ চোখে দেখেছি, নিউ মার্কেটের হকার মার্কেট থেকে ইন্ডিয়ান আর্মিরা হকারদের জিনিস নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশী টাকায়। ফলে আপনারাও যদি একাত্তরের মতো হাল ছেড়ে দেন, তাহলে একই রূপ নেবে। এই সংবিধান বাংলাদেশের সংবিধান না। এটি পাকিস্তানের আমলের সংসদ্মে পাশ হয়েছে। ফলে এটা দিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য আইন হতে পারে না। আমাদের এখানে যে গণপরিষদ হয়েছে, তাকে আপনারা স্বীকার করেননি। এই গণপরিষদে আমাদের ভুল হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনইএবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ। এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আজমী, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ইন্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের মা বিলকিস জামান, জুলাই যোদ্ধা প্রকৌশলী ইফফাত আহমেদ, জুলাই যোদ্ধা শাহেদ ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা মোরসালিন ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট রাজনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ