ATN
শিরোনাম
  •  

বাবার গলায় করাত ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

         
বাবার গলায় করাত ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

বাবার গলায় করাত ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ আলী (২৪) সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার মিরাজের বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের পাশাপাশি সে চুরি, মারামারি, পারিবারিক সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদকের টাকা না পেলে মিরাজ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে চুরি করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হলেও ফিরে এসে আবারও মাদক গ্রহণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে তিনি দুইবার কারাভোগ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বাড়িতে পারিবারিক অশান্তির একপর্যায়ে বাবা জাহিদুল ইসলাম ছেলের কাছে কারণ জানতে চাইলে মিরাজ ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশে তেড়ে যান। পরে বাবা ও মা দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

ঘটনার পরদিন মিরাজের বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের শুনানিতে মিরাজ আলী মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগের বিবরণ, আসামির স্বীকারোক্তি এবং উদ্ধার হওয়া আলামত বিবেচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা বলেন, “অভিযোগ, স্বীকারোক্তি ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।”

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ