ATN
শিরোনাম
  •  

এসএসসিতে এবারও নেই গ্রেস মার্ক, ‘যা লিখেছে তাই নম্বর’ নীতিতে মূল্যায়ন

         
এসএসসিতে এবারও নেই গ্রেস মার্ক, ‘যা লিখেছে তাই নম্বর’ নীতিতে মূল্যায়ন

এসএসসিতে এবারও নেই গ্রেস মার্ক, ‘যা লিখেছে তাই নম্বর’ নীতিতে মূল্যায়ন

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। উত্তরপত্র মূল্যায়ন, প্রধান পরীক্ষকদের মাধ্যমে পুনঃযাচাই, নম্বর পাঠানো, ডেটা ইনপুট ও জিপিএ নির্ধারণসহ ফল তৈরির বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই।

শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ বা ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল শতভাগ প্রস্তুত হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নির্ধারণ করা হবে ফল প্রকাশের তারিখ।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ২৭ অথবা ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে রেজাল্ট শতভাগ প্রস্তুত হবে। এরপর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করবে।”

গ্রেস মার্ক বা অতিরিক্ত নম্বরের সুযোগ নেই

এবারের এসএসসি ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের গ্রেস মার্ক, অতিরিক্ত নম্বর বা সহানুভূতিশীল মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়নি।

বোর্ড সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীর খাতায় যা লেখা হয়েছে, নির্ধারিত নম্বর বণ্টনের ভিত্তিতে শুধু সেটির ওপরই নম্বর দেওয়া হয়েছে। সীমার কাছাকাছি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে পাস করানো বা গ্রেড পরিবর্তনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা এবারও ‘যা লিখেছে, তাই নম্বর’ নীতিতেই খাতা মূল্যায়ন করেছি। কোথাও গ্রেস মার্ক বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।”

তিনি বলেন, “পরীক্ষার্থী যে উত্তর লিখেছে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলাফলেও এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাবে।”

কঠোর মূল্যায়নের ধারাবাহিকতা

গত কয়েক বছর ধরে অস্বাভাবিক বেশি পাসের হার ও জিপিএ-৫ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে শিক্ষা বোর্ডগুলো। বিশেষ করে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া বা সহানুভূতিশীল মূল্যায়নের অভিযোগের পর গত বছর থেকে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়।

বোর্ড কর্মকর্তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও শেখার সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিমভাবে পাসের হার বা জিপিএ-৫ বাড়ানোর কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

পাসের হার কমার আশঙ্কা

এদিকে বিভিন্ন মহলে এবারের সম্ভাব্য পাসের হার ও জিপিএ-৫ নিয়ে আলোচনা চলছে। বোর্ড সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফল গত বছরের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হতে পারে।

তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ ধরনের তথ্য নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, “এটি সঠিক নয়। আমরা নিজেরাও এখন বলতে পারছি না কত শতাংশ পাস হবে। ফল প্রকাশের হয়তো দুই ঘণ্টা আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।”

গত বছর ছিল ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

কঠোর মূল্যায়নের কারণে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে আসে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম। এটি ছিল টানা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ওই বছর ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে।

বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি কঠোর মূল্যায়ন নীতিও ফল কমার অন্যতম কারণ ছিল।

এবার পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধন করেছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

পরীক্ষা চলাকালে নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ২০৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, একই মূল্যায়ন নীতি অনুসরণ করায় এবারও ফলাফলে কঠোর মূল্যায়নের প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তারা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ