ATN
শিরোনাম
  •  

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটির ‘আকিলিস হিল’: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে ঝুঁকিতে পড়বে সামরিক সক্ষমতা

         
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটির ‘আকিলিস হিল’: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে ঝুঁকিতে পড়বে সামরিক সক্ষমতা

আকিলিস হিল

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত কমান্ড সেন্টারে সজ্জিত এসব ঘাঁটিকে বাইরে থেকে অপ্রতিরোধ্য মনে হলেও, এর ভেতরে রয়েছে একটি বড় কৌশলগত দুর্বলতা—বিদ্যুৎ নির্ভরতা।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বড় একটি অংশ স্থানীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। আর এই নির্ভরতাই এখন ওয়াশিংটনের জন্য সম্ভাব্য ‘আকিলিস হিল’ বা দুর্বলতম বিন্দু হিসেবে সামনে আসছে।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে এসব বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন সামরিক শক্তি

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হলো স্থানীয় মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়। তবে এই ঘনিষ্ঠ নির্ভরতা এখন নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিগুলো যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি স্তর—রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি ও কমান্ড সেন্টার—নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

ছবি
আল তাউইলা বিদ্যুৎ কেন্দ্র: আল ধাফরা ঘাঁটির শক্তির উৎস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত আল তাউইলা বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশটির অন্যতম বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা। প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কৌশলগত দিক থেকে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত। এই ঘাঁটিতে আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক নজরদারি ড্রোনসহ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এসব প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক ব্যবস্থার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি
দুবাইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও আল মিনহাদ ঘাঁটি

দুবাইয়ের বিদ্যুৎ ও পানি কর্তৃপক্ষের (DEWA) বিশাল বিদ্যুৎ অবকাঠামো শহরের প্রধান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটি, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ঘাঁটির স্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

ছবি
রাস লাফান বিদ্যুৎ কেন্দ্র: সেন্টকমের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

কাতারের রাস লাফান বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ পাওয়া আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

এই ঘাঁটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের আঞ্চলিক বিমান অভিযান পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখে। ফলে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা শুধু একটি বেসামরিক বিষয় নয়, বরং সামরিক সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

ছবি
রিয়াদ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাও স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

যেকোনো বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট বা অবকাঠামোগত অস্থিতিশীলতা এই ঘাঁটির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন যুগের যুদ্ধের নতুন দুর্বলতা

আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্র ও সেনাবাহিনীর শক্তির ওপর নির্ভর করে না; এর পেছনে প্রয়োজন শক্তিশালী অবকাঠামো। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া আধুনিক সামরিক ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর এই নির্ভরতা তাই নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখন শুধু উন্নয়ন অবকাঠামো নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, বিদ্যুৎ নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ