ATN
শিরোনাম
  •  

প্লটের নামে প্রতারণা: বেস্টওয়ে ল্যান্ডের এমডিসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকার মামলা

         
প্লটের নামে প্রতারণা:  বেস্টওয়ে ল্যান্ডের এমডিসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকার মামলা

সিআইডি

প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেনসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্যও মিলেছে। এ ঘটনায় বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সিআইডির তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব ও মোচারতালুকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচারণা চালায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ গ্রাহককে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের প্লটের পরিবর্তে কেবল জিম্মা বা নিরাপত্তার জন্য সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও প্রকৃত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সিআইডি আরও জানায়, অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩৫৯ কোটি টাকা জমা এবং প্রায় ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব অর্থ বিভিন্নভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্লট বরাদ্দের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্রাহকদের দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার আরও গ্রাহকদের শনাক্তের কাজও চলছে।

এদিকে, আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যাচাই করে বিনিয়োগের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ