ATN
শিরোনাম
  •  

তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

         
তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

উজানে ঢল আর ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। ফের বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গুড্ডিমারী ইউনিয়নের সোফিয়ার রহমান বলেন, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে, এ কারণে আতঙ্কে রয়েছি।

এ দিকে পানির চাপ বাড়ার কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অথচ আগেভাগে সংস্কার করা হলে বাঁধ আরও টেকসই হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যেত।

গোবর্ধন গ্রামের বশির উদ্দিন বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বাঁধগুলো ভেঙে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষ হিসেবে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই।

ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ