ATN
শিরোনাম
  •  

নিয়তির তুলিতে আঁকা এক অলৌকিক রূপকথা, মেসির মুখোমুখি ইয়ামাল

         
নিয়তির তুলিতে আঁকা এক অলৌকিক রূপকথা, মেসির মুখোমুখি ইয়ামাল

নিয়তির তুলিতে আঁকা এক অলৌকিক রূপকথা, মেসির মুখোমুখি ইয়ামাল

পৌরাণিক সেই দৈববাণীর মতো করেই যেন বলা যায়—'তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে'। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসি হয়তো জানতেনও না, যে শিশুকে তিনি বাথটাবে গোসল করাচ্ছেন, সেই শিশুই ১৯ বছর পর বিশ্বকাপে তাঁরই সিংহাসন কেড়ে নিতে গোকুলের মতো বার্সার 'লা মাসিয়া' একাডেমিতে বড় হচ্ছে!

সত্যি বলতে নিয়তির চেয়ে বড় চিত্রনাট্যকার আর কে আছে? ২০ বছরের লিওনেল মেসি পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন ৫ মাসের এক শিশুকে। কে জানত, মেসির হাতের সেই জলছাপই একদিন এই শিশুর গায়ে এঁকে দেবে আগামীর মহাতারকার ভাগ্য! সেই শিশুটি আর কেউ নন, স্পেনের বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ সালে এসে ফুটবল বিশ্ব দেখতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কাকতাল! বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৯ জুলাই রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই লড়াইয়ের মধ্যেই থাকবে আরেকটি লড়াই যেখানে মেসির মুখোমুখি ইয়ামাল! একদিকে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবল ঈশ্বর, অন্যদিকে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন সিংহাসন দাবি করা এক তরুণ তুর্কি।

দুই তারকার অবিশ্বাস্য কাকতালের একটা গল্প বলা যাক। ১৮ বছর বয়সে ১৯ নম্বর জার্সিতে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ঠিক একইভাবে ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি পেয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। তাও আবার ১৯ নম্বর জার্সি পরেই! এ যেন এক অন্য রকম রূপকথা।

আসলে ফুটবল কখনো কখনো নিখাদ রূপকথাকেও হার মানায়। তাইতো এটা কেবল মেসি আর ইয়ামালের গল্প নয়। নয় আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ফাইনালের গল্প, এটি আসলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মধুর ও অবিশ্বাস্য এক কাকতালের গল্প।

কিভাবে সেদিন দেখা হয়েছিল মেসি ও ইয়ামালের? ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ক্যাম্পেইনের জন্য লটারি জেতে ইয়ামালের পরিবার। পুরস্কার হিসেবে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামাল সুযোগ পায় বার্সার তৎকালীন উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার। প্লাস্টিকের নীল গামলায় রাখা শিশু ইয়ামালকে মেসি যখন হাসিমুখে গোসল করাচ্ছিলেন, তখনো কেউ জানত না ফুটবল দেবতা অলক্ষ্যে হাসছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো রসিকতা করে এখন বলে, “মেসি আসলে নিজের ফুটবলীয় জাদু সেদিন ইয়ামালের গায়ে ঢেলে দিয়েছিলেন।”

বিশ্ব এর আগে গুরু-শিষ্যের অনেক লড়াই দেখেছে, কিন্তু ফাইনালে এই পেছনের গল্প সব অতীতকে ম্লান করে দেয়। যে মানুষটির কোলে একদিন অবোধ শিশু হিসেবে খেলেছেন, আজ তাকেই স্তব্ধ করে দিতে স্পেনের আক্রমণভাগের ব্যাটন হাতে দাঁড়িয়ে ১৯ বছরের ইয়ামাল। আর মেসি লড়ছেন নিজের শেষ বিশ্বকাপকে অমর করে রাখতে।

ছবি

শুক্রবার ম্যাচের আগে প্রেস মিটে মেসি নিজে এই ছবি নিয়ে কথা বলেন। অবিশ্বাস্য মুগ্ধতা নিয়ে মেসি বলেন, “ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য। আমি যখন খুব তরুণ, তখন ওর একটা ছবি তুলেছিলাম। আজ আমরা দুজনেই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি খেলব— ইটস ক্রেজি।”

এ যেন ফুটবলের এক জাদুকরী উত্তরাধিকার পাসিং অব দ্য ব্যাটন। অনেকে ছবিটিকে প্রথমে এআই বা ভুয়া মনে করলেও এটি শতভাগ সত্য ছবি। ইয়ামালের সতীর্থ মিকেল মেরিনো যেমন বলেছেন, “প্রথমে আমি এটাকে এআই ভেবেছিলাম। এরপর যোগ করেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুইজন খেলোয়াড়ের—এবং আশা করি ভবিষ্যৎ কিংবদন্তি লামিনেও তাদের একজন হবে—একই ফ্রেমে এমন একটা ছবি থাকাটা আসলেই অবিশ্বাস্য। আশা করছি এই দুই মহানায়ক নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনাল মঞ্চে দর্শকদের এক চোখধাঁধানো ফুটবল উপহার দেবেন।”

এই যুগলের সেই বিখ্যাত ছবি তোলা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট কি ভেবে ছবিটি তুলেছিলেন? সেদিনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? তিনি বলেন, “২০০৭ সালের ওই চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের ছবি তোলার সময় ২০ বছরের মেসি নিজে ভীষণ লাজুক ছিলেন। তিনি ৫ মাসের ইয়ামালকে কীভাবে কোলে নেবেন সেটাই বুঝতে পারছিলেন না, পরে ইয়ামালের মা এসে সাহায্য করেন।” এই পুরো ঘটনার আসল কৃতিত্ব বার্সেলোনা ভিত্তিক স্প্যানিশ পত্রিকা 'স্পোর্ট'-এর। কারণ ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারাই এই চ্যারিটি লটারির আয়োজন করেছিল।

ইয়ামালের বাবা-মা লটারিতে জিতে সুযোগ পেয়েছিলেন বার্সার কোনো এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার এবং ভাগ্যের জোরে তাদের ভাগ্যে ওঠে মেসির নাম। স্পোর্ট এই ফাইনাল উপলক্ষে তাদের সেই আর্কাইভাল রিলিজ নতুন করে ছবিটি সামনে এনেছে।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম টিওয়াসি স্পোর্টস ও ওলে একটু ভিন্ন আবেগ দিয়ে প্রতিবেদন করেছে। তারা ইয়ামালের বাবার একটি পুরনো ইনস্টাগ্রাম পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়েছে, যেখানে ইয়ামালের বাবা লিখেছিলেন— "The beginning of two legends"। আর্জেন্টাইন মিডিয়া বলছে, মেসি সেদিন অনিচ্ছাকৃতভাবেই হয়তো তার ফুটবলীয় আশীর্বাদ বা ‘পবিত্র জল’ দিয়ে ইয়ামালকে বাথটাবের মধ্যে দীক্ষা দিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সেই শিষ্যই আর্জেন্টিনার ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ