মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় ৪ থেকে ৫টি বেওয়ারিশ কুকুর হঠাৎ পথচারী ও স্থানীয়দের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম, হামিদা খাতুনসহ প্রায় ২০ জন। এছাড়া কয়েকটি ছাগলও কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটলেও একসঙ্গে এত মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
কুকুরের কামড়ে আহত রহিদুল ইসলাম বলেন, চার থেকে পাঁচটি কুকুর গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি করে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায়নি। সরকারি হাসপাতালে ভোগান্তি হবে মনে করে সেখানে যাইনি। ভ্যাকসিন আছে কিনা তাও জানতাম না। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছি।
রামনগর গ্রামের বিএনপি নেতা হান্নান খান বলেন, আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, অন্তত ২০ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আমার বাড়ির একটি ছাগলও কামড়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, বিভিন্ন গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। আজ রামনগর গ্রামে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আমি আহত কয়েকজনকে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। ২০২২ সালে দেশব্যাপী জলাতঙ্ক প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। যারা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন গাংনী পৌর শহরেও বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে বিভিন্ন বয়সী ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। পরপর এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সচেতন মহল বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ শুক্রবার দুপুরে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় ৪ থেকে ৫টি বেওয়ারিশ কুকুর হঠাৎ পথচারী ও স্থানীয়দের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম, হামিদা খাতুনসহ প্রায় ২০ জন। এছাড়া কয়েকটি ছাগলও কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটলেও একসঙ্গে এত মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
কুকুরের কামড়ে আহত রহিদুল ইসলাম বলেন, চার থেকে পাঁচটি কুকুর গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি করে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায়নি। সরকারি হাসপাতালে ভোগান্তি হবে মনে করে সেখানে যাইনি। ভ্যাকসিন আছে কিনা তাও জানতাম না। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছি।
রামনগর গ্রামের বিএনপি নেতা হান্নান খান বলেন, আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, অন্তত ২০ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আমার বাড়ির একটি ছাগলও কামড়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, বিভিন্ন গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। আজ রামনগর গ্রামে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আমি আহত কয়েকজনকে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। ২০২২ সালে দেশব্যাপী জলাতঙ্ক প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। যারা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন গাংনী পৌর শহরেও বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে বিভিন্ন বয়সী ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। পরপর এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সচেতন মহল বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
