শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বন্ধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বন্ধে কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এ বিষয়ে গতকাল চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেছে।
সেই নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ হবে ৪ বছর। যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত মেয়াদের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চান, তাহলে অবশ্যই তাকে মার্কিন ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নিতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন— তাহলে তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আছে। দেশটির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক শিক্ষা কর্মসূচির মেয়াদ ৪ বছরের, তবে স্নাতকত্তোর এবং ডক্টরেট বা পিএইএচডি ডিগ্রির কর্মসূচিগুলো আরও দীর্ঘমেয়াদি হয়। প্রতি বছর যত বিদেশি শিক্ষার্থী দেশটিতে ডিগ্রি নিতে আসেন, তাদের বড় অংশই স্নাতক ডিগ্রি নিতে আসেন এবং তাদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিনকার্ড পেতে আগ্রহী— তারা স্নাতক কোর্সের বিষয় পরিবর্তন, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, ব্যক্তিগত কারণ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশলে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে থাকেন।
এই শিক্ষার্থীদের জন্য খুব সহায়ক এফ-১ এবং জে-১ ভিসা। কারণ এ দুই ভিসার শর্ত, একজন বিদেশি শিক্ষার্থী যতদিন তার ডিগ্রি শেষ না করবেন— ততদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবেন।
এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়।
নোটিশে এ দু’টি বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হলে শিক্ষার্থীদের হুটহাট কোর্স বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন কঠিন হয়ে উঠবে। আর যেসব শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন সম্পন্ন করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য সময় পাবেন ৩০ দিন।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতি কার্যকর করা হবে বলে উল্লেখ করে বিবিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ব্যাপকমাত্রায় ভিসার অপব্যাবহার বন্ধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ভিসানীতি কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার জন্য আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেসি সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস ফেডারেল সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘ভুল পথে চালানাকারী’ বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির শীর্ষ নির্বাহী ফান্তা আও বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘ দিন ধরে কার্যকরভাবে চলতে থাকা একটি ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আমলাতন্ত্র এবং ভীতির প্রবেশ ঘটবে। এটি হলো এমন একটি সমাধান, যা সমস্যার সন্ধানে আছে।”
সূত্র : বিবিসি
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
সেই নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ হবে ৪ বছর। যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত মেয়াদের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চান, তাহলে অবশ্যই তাকে মার্কিন ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নিতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন— তাহলে তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আছে। দেশটির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক শিক্ষা কর্মসূচির মেয়াদ ৪ বছরের, তবে স্নাতকত্তোর এবং ডক্টরেট বা পিএইএচডি ডিগ্রির কর্মসূচিগুলো আরও দীর্ঘমেয়াদি হয়। প্রতি বছর যত বিদেশি শিক্ষার্থী দেশটিতে ডিগ্রি নিতে আসেন, তাদের বড় অংশই স্নাতক ডিগ্রি নিতে আসেন এবং তাদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিনকার্ড পেতে আগ্রহী— তারা স্নাতক কোর্সের বিষয় পরিবর্তন, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, ব্যক্তিগত কারণ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশলে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে থাকেন।
এই শিক্ষার্থীদের জন্য খুব সহায়ক এফ-১ এবং জে-১ ভিসা। কারণ এ দুই ভিসার শর্ত, একজন বিদেশি শিক্ষার্থী যতদিন তার ডিগ্রি শেষ না করবেন— ততদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবেন।
এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়।
নোটিশে এ দু’টি বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হলে শিক্ষার্থীদের হুটহাট কোর্স বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন কঠিন হয়ে উঠবে। আর যেসব শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন সম্পন্ন করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য সময় পাবেন ৩০ দিন।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতি কার্যকর করা হবে বলে উল্লেখ করে বিবিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ব্যাপকমাত্রায় ভিসার অপব্যাবহার বন্ধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ভিসানীতি কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার জন্য আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেসি সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস ফেডারেল সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘ভুল পথে চালানাকারী’ বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির শীর্ষ নির্বাহী ফান্তা আও বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘ দিন ধরে কার্যকরভাবে চলতে থাকা একটি ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আমলাতন্ত্র এবং ভীতির প্রবেশ ঘটবে। এটি হলো এমন একটি সমাধান, যা সমস্যার সন্ধানে আছে।”
সূত্র : বিবিসি
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
