ATN
শিরোনাম
  •  

ঢাকায় এবার মনোরেল করতে চায় সরকার

         
ঢাকায় এবার মনোরেল করতে চায় সরকার

মনোরেল

রাজধানীর যানজট কমানো এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি করিডোরে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মনোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। প্রকল্পটি বর্তমানে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি) পর্যায়ে রয়েছে।

ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাঁচটি করিডোর হলো—বিমানবন্দর-জলসিঁড়ি, বিমানবন্দর-সাভার, মোহাম্মদপুর-পাগলা, মধ্য বাড্ডা-তুলতা এবং রামপুরা-ডেমরা। এসব রুটের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সঙ্গে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। সমীক্ষায় সম্ভাব্য রুট, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা, ব্যয় এবং বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে।

প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কাজ বুয়েটের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দেশে মনোরেল বিষয়ে বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমীক্ষা শেষ হলে প্রকল্প কমিটি গঠন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, বিস্তারিত নকশা ও ব্যয় নির্ধারণ এবং দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ-জাপান অষ্টম যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় উপস্থাপনের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে ঢাকা মহানগরের বিদ্যমান ও পরিকল্পিত মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের সমন্বয় এবং নারায়ণগঞ্জে মনোরেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, মনোরেল প্রকল্পটি বর্তমানে প্রাথমিক পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য রুট, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকাবাসীকে মনোরেল সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ডিটিসিএর মনোরেল-সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সর্বশেষ আরবান রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজিক ভিশনে ঢাকার জন্য পাঁচটি মনোরেল রুটের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দুটি রুট চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের ধরন এবং বাস্তবায়ন মডেল নিয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মনোরেলকে মেট্রোরেলের বিকল্প নয়, বরং একটি ফিডার সার্ভিস হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমআরটি লাইন-৬সহ অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করে একটি সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সংকীর্ণ সড়ক ও ঘনবসতির কারণে পুরান ঢাকাকে মনোরেল প্রকল্পের অগ্রাধিকার এলাকাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ