ATN
শিরোনাম
  •  

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আজ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ

         
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আজ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আজ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ

টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিএন্ডটি স্টেডিয়াম পেরিয়ে এবার ফুটবল বিশ্বের সব নজর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। বুধবার (১৫ জুলাই) এখানেই বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই লড়াই এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার ইতিহাস ম্যাচটিকে আরও বাড়তি গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এবার সেই কীর্তি গড়ার সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। আর তা সম্ভব হলে কিংবদন্তি লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হবে স্মরণীয় এক সাফল্যের মধ্য দিয়ে।

৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের আসরে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বেই শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটিই হবে বিশ্বকাপে তাঁর শেষ উপস্থিতি।

তবে মেসি আবারও ফিরেছেন এবং দলকে সেমিফাইনালে তুলতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জেতা দুই ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি।

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের আসরে এখন পর্যন্ত যেসব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, তাদের তুলনায় ইংল্যান্ড অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি থমাস টুখেলের দল।

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে ভরসার প্রতীক অধিনায়ক হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম। দলের করা ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে এই দুই তারকার পা থেকে।

২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে চান কোচ থমাস টুখেল। তবে ম্যাচটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যে বাড়তি চাপ তৈরি করছে, সেটিও অস্বীকার করেননি তিনি।

টুখেল বলেন, “আমি কোনো বোঝা অনুভব করছি না। চাপ অবশ্যই থাকবে এবং আমরা কিছুটা নার্ভাস থাকব, তবে এটা স্বাভাবিক।”

তিনি আরও বলেন, “যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, তা হলো খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা রয়েছে। তারা ক্ষুধার্ত এবং এই ম্যাচটি খেলতে মুখিয়ে আছে।”

জার্মান এই কোচ আরও জানিয়েছেন, অসুস্থতা কাটিয়ে মিডফিল্ডার ডিক্লান রাইস শুরুর একাদশে খেলতে প্রস্তুত।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাস বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পায়। ম্যাচটিতে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা দুটি গোল ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এর একটি ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, আর অন্যটি একক নৈপুণ্যে করা সর্বকালের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

এর ১২ বছর পর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পক্ষপাতী নন।

তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। অনেক বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমি এটিকে মেলাতে চাই না।”

স্কালোনি আরও বলেন, “ওটা আমাদের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত দুঃখজনক সময় ছিল। এখন আমরা সে বিষয়ে কিছুই পরিবর্তন করতে পারি না। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।”

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ