ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, হাইকোর্টের ওই আদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সংশোধন’ প্রয়োজন এবং বিদ্যমান আইন বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
সোমবার প্রকাশিত এ রায়ের মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকারের করা আপিলে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি মিলেছে। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের পক্ষে করা আপিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই স্থগিতাদেশ দেন।
এর আগে গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণনের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। ওই রায়ে তামিলনাড়ুজুড়ে গরু জবাই কার্যত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, গবাদিপশু সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিচারপতি স্বামীনাথন তার রায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গবাদিপশু ও দুগ্ধজাত পশু সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের সময় থেকে গরুকে একটি পবিত্র ও শ্রদ্ধার প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।
তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেয়, রাজ্যের বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। তাই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।
সরকার আদালতকে আরও জানায়, রাজ্যে প্রচলিত পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা-সংক্রান্ত বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিধান নেই।
হাইকোর্টের রায়ের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিধি মেনে ঈদুল আজহায় ব্যক্তিগত আঙিনা বা ধর্মীয় স্থানে কোরবানি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যগতভাবে পশু বলির প্রচলন রয়েছে।
সামাজিক নেতাদের দাবি, এসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, উৎসবের সময় বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা অধিকাংশ সরকারি কসাইখানার নেই।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে আপাতত মাদ্রাজ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
সোমবার প্রকাশিত এ রায়ের মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকারের করা আপিলে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি মিলেছে। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের পক্ষে করা আপিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই স্থগিতাদেশ দেন।
এর আগে গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণনের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। ওই রায়ে তামিলনাড়ুজুড়ে গরু জবাই কার্যত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, গবাদিপশু সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিচারপতি স্বামীনাথন তার রায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, গবাদিপশু ও দুগ্ধজাত পশু সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের সময় থেকে গরুকে একটি পবিত্র ও শ্রদ্ধার প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।
তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেয়, রাজ্যের বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। তাই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।
সরকার আদালতকে আরও জানায়, রাজ্যে প্রচলিত পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা-সংক্রান্ত বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিধান নেই।
হাইকোর্টের রায়ের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিধি মেনে ঈদুল আজহায় ব্যক্তিগত আঙিনা বা ধর্মীয় স্থানে কোরবানি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যগতভাবে পশু বলির প্রচলন রয়েছে।
সামাজিক নেতাদের দাবি, এসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, উৎসবের সময় বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা অধিকাংশ সরকারি কসাইখানার নেই।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে আপাতত মাদ্রাজ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
