বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন-ফ্রান্স মহারণ, ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলছে দর্শক
আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগকে থামানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই পরাশক্তির এই লড়াই। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা সেরা দুই দলের এই দ্বৈরথকে অনেকেই অভিহিত করছেন ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে।
দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স অনায়াসেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের তারকাখচিত আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ছয় ম্যাচে ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন। এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি'অরজয়ী ওসমানে ডেম্বেলে এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিসায়ার ডুয়ে।
অন্যদিকে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবল, কৌশলী আক্রমণ এবং প্রতিভাবান স্কোয়াডের সমন্বয়ে ঠান্ডা মাথায় সেমিফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন।
ফ্রান্স যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভর করে এগিয়েছে, সেখানে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিংয়ে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত মিডফিল্ড নিয়মিত সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে কিশোর উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের জন্য।
সব মিলিয়ে এটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক ক্লাসিক লড়াই। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থদের কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা ফ্রান্সের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করবে, যারা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েনি।
যদিও কাজটি মোটেও সহজ হবে না, তবু সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে দারুণ রেকর্ড স্পেনকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল তারা।
শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর লামিন ইয়ামাল বলেন, স্পেনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা দুটি দুর্দান্ত দল, বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। কী হবে, সেটা দেখা যাবে। কিন্তু আমাদের কোনো ভয় নেই। দুটি সম্ভাবনা আছে—হয় তারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। দেখা যাক কী হয়। আমরা মোটেও ভীত নই।”
স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেও তাঁর শিষ্যের সঙ্গে একমত।
তিনি বলেন, “ফ্রান্স দারুণ ছন্দে আছে এবং আমাদের খেলার ধরন আলাদা। আমরা প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সম্মান করি, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের অসাধারণ শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানি। তবে এটাও জানি, সেমিফাইনালে তাদের হারানোর কৃতিত্ব একমাত্র আমাদেরই রয়েছে।”
অন্যদিকে ফ্রান্সও আত্মবিশ্বাসী যে তাদের তারকাখচিত আক্রমণভাগ স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম হবে।
দেশ্যমের অধীনে তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা ফরাসি দলে লক্ষ্য, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ শেষেই প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়বেন দেশ্যম।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তৃতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এর আগে কেবল জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০ এবং ২০০২-২০১৪) ও ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।
তবে আধুনিক ফুটবলে ফ্রান্সকে পরাশক্তিতে পরিণত করার কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করতে রাজি নন দেশ্যম। গত সপ্তাহে সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “সম্ভবত খুব ভালো খেলোয়াড় থাকার কারণেই। তবে মনে হয় আমি আমার কাজটাও খুব খারাপ করছি না। এটি একটি মানবিক যাত্রা। খেলোয়াড়দের আমি বেছে নিয়েছি, কিন্তু প্রতিদিন এই দলটির সঙ্গে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি, আর তাদের এত আনন্দ নিয়ে খেলতে দেখেও ভালো লাগে।”
দেশ্যমের প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থার প্রতিফলনও দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গ্রুপ পর্ব চলাকালে মায়ের মৃত্যুর কারণে দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না। এক ম্যাচ বিরতির পর আবারও দলের দায়িত্বে ফেরেন তিনি।
অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, “যাই ঘটুক না কেন, এই দলের ডিএনএ-তেই আছে সবাই একসঙ্গে থাকা এবং কোচের পাশে দাঁড়ানো।”
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই পরাশক্তির এই লড়াই। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা সেরা দুই দলের এই দ্বৈরথকে অনেকেই অভিহিত করছেন ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে।
দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স অনায়াসেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের তারকাখচিত আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ছয় ম্যাচে ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন। এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি'অরজয়ী ওসমানে ডেম্বেলে এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিসায়ার ডুয়ে।
অন্যদিকে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবল, কৌশলী আক্রমণ এবং প্রতিভাবান স্কোয়াডের সমন্বয়ে ঠান্ডা মাথায় সেমিফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন।
ফ্রান্স যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভর করে এগিয়েছে, সেখানে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিংয়ে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত মিডফিল্ড নিয়মিত সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে কিশোর উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের জন্য।
সব মিলিয়ে এটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক ক্লাসিক লড়াই। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থদের কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা ফ্রান্সের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করবে, যারা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েনি।
যদিও কাজটি মোটেও সহজ হবে না, তবু সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে দারুণ রেকর্ড স্পেনকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্পেন ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল তারা।
শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর লামিন ইয়ামাল বলেন, স্পেনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা দুটি দুর্দান্ত দল, বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। কী হবে, সেটা দেখা যাবে। কিন্তু আমাদের কোনো ভয় নেই। দুটি সম্ভাবনা আছে—হয় তারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। দেখা যাক কী হয়। আমরা মোটেও ভীত নই।”
স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেও তাঁর শিষ্যের সঙ্গে একমত।
তিনি বলেন, “ফ্রান্স দারুণ ছন্দে আছে এবং আমাদের খেলার ধরন আলাদা। আমরা প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সম্মান করি, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের অসাধারণ শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানি। তবে এটাও জানি, সেমিফাইনালে তাদের হারানোর কৃতিত্ব একমাত্র আমাদেরই রয়েছে।”
অন্যদিকে ফ্রান্সও আত্মবিশ্বাসী যে তাদের তারকাখচিত আক্রমণভাগ স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম হবে।
দেশ্যমের অধীনে তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা ফরাসি দলে লক্ষ্য, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ শেষেই প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়বেন দেশ্যম।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তৃতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এর আগে কেবল জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০ এবং ২০০২-২০১৪) ও ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।
তবে আধুনিক ফুটবলে ফ্রান্সকে পরাশক্তিতে পরিণত করার কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করতে রাজি নন দেশ্যম। গত সপ্তাহে সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “সম্ভবত খুব ভালো খেলোয়াড় থাকার কারণেই। তবে মনে হয় আমি আমার কাজটাও খুব খারাপ করছি না। এটি একটি মানবিক যাত্রা। খেলোয়াড়দের আমি বেছে নিয়েছি, কিন্তু প্রতিদিন এই দলটির সঙ্গে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি, আর তাদের এত আনন্দ নিয়ে খেলতে দেখেও ভালো লাগে।”
দেশ্যমের প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থার প্রতিফলনও দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গ্রুপ পর্ব চলাকালে মায়ের মৃত্যুর কারণে দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না। এক ম্যাচ বিরতির পর আবারও দলের দায়িত্বে ফেরেন তিনি।
অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, “যাই ঘটুক না কেন, এই দলের ডিএনএ-তেই আছে সবাই একসঙ্গে থাকা এবং কোচের পাশে দাঁড়ানো।”
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
