ATN
শিরোনাম
  •  

১২ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড

         
১২ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড

১২ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের ঘড়িকে নিখুঁত সময়ের প্রতীক বলা হয়। নির্ভুলতা, শৃঙ্খলা আর ভুলহীন হিসাবই যেন দেশটির পরিচয়। তবে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় সাও পাওলোর সেই রাতে ১১৮তম মিনিটে থেমে গিয়েছিল সুইসদের সব পরিকল্পনা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৭টায় আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। এবার লড়াই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার।

গত ১২ বছরে অনেক কিছু বদলে গেলেও দুই দলের জার্সির রং যেমন অপরিবর্তিত রয়েছে, তেমনি মাঠে এখনও দেখা যাবে তিন পরিচিত মুখকে—আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা ও রিকার্দো রদ্রিগেজকে।

২০১৪ সালের সেই পরাজয়ের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি জাকা। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, “এই সময়ে মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা সৌভাগ্যের। ২০১৪ সালে হারের পরই বুঝেছিলাম, তার কোনো তুলনা হয় না। শুধু মেসিই নয়, পুরো আর্জেন্টিনা দলই অসাধারণ।”

একই সুরে কথা বলেছেন রদ্রিগেজও। তার ভাষায়, “আর্জেন্টিনা দারুণ একটি দল। তাদের অসাধারণ খেলোয়াড় আছে, কোচও দুর্দান্ত। আর বিশ্বের সেরা ফুটবলার তো আছেই।”

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। আগের মতো গতি না থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা তার অটুট। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর নায়ক ছিলেন তিনিই।

সেই ম্যাচ শেষে মেসি বলেছিলেন, “এই দল কখনও হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।” তার এই মন্তব্যেই যেন বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে বয়স তার লক্ষ্য বদলে দেয়নি। ২০১৪ সালে যেমন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে খেলেছিলেন, এবারও সেই একই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডও আর আগের মতো শুধুই রক্ষণাত্মক দল নয়। কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে দলটি বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত রয়েছে। আলজেরিয়াকে হারিয়ে এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইসরা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রতিপক্ষকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক। তিনি বলেন, “সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। তাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের জন্য এটি আরেকটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।”

ঐতিহাসিকভাবেও বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের ভালো স্মৃতি রয়েছে। প্রথম চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবার তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে এবারের ছন্দ যোগ হওয়ায় আত্মবিশ্বাসী কোচ মুরাত ইয়াকিনও। তিনি বলেন, “চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলাটা বড় সুযোগ। আমরা জানি, আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। কৌশলগতভাবে এটি দারুণ একটি লড়াই হবে।”

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথও খুব সহজ ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে জয় এবং মিসরের বিপক্ষে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো নাটকীয় ম্যাচ খেলেই শেষ আটে পৌঁছেছে আলবিসেলেস্তেরা।

তবে স্কালোনির জন্য স্বস্তির খবর, তার প্রায় পুরো স্কোয়াডই এখন ফিট। সামনে একাদশ নির্বাচনের প্রশ্নে মূল ভাবনা—মেসির পাশে হুলিয়ান আলভারেজ নাকি লাওতারো মার্তিনেজ। বাঁ প্রান্তে খেলবেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, নাকি সুযোগ পাবেন তরুণ মেদিনা—সেটিও দেখার বিষয়। মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো দি পল বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে মেসির জন্য সুযোগ তৈরির দায়িত্বে থাকবেন।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়েলার। মাঝমাঠে শক্ত ব্লক গড়ে আর্জেন্টিনাকে উইংয়ে ঠেলে দিতে চাইবে তারা। এরপর ড্যান এনদোয়ে ও রুবেন ভারগাসের গতি কাজে লাগিয়ে বল পৌঁছে দেওয়া হবে ব্রিল এমবোলোর কাছে। মাঝমাঠের এই কৌশলগত লড়াইই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিসংখ্যান অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে দুইবারের দেখায় ১৯৬৬ সালে ২-০ এবং ২০১৪ সালে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সব মিলিয়ে দুই দলের সাতটি সাক্ষাতে আর্জেন্টিনার জয় পাঁচটি, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

এছাড়া ২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের বার্নে ৩-১ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকও করেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই স্মৃতি নিয়েই এবার কানসাসে আবারও সুইসদের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ