ATN
শিরোনাম
  •  

শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

         
শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৮৪ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

যদিও প্রথম দুই ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে হেরে সিরিজ আগেই খুইয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচে জিতেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় জিম্বাবুয়ে। এর আগে ২০২২ সালেও বাংলাদেশের বিপক্ষে একই ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল স্বাগতিকরা। চলতি সফরে একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নতুন বলে দারুণ সূচনা এনে দেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই ২ রান করা বেন কারানকে বোল্ড করেন শরিফুল। পরের ওভারে তাসকিন ফেরান আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে, যিনি করেন ৬ রান। এরপর শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৫ রান করে বিদায় নেন ক্রেইগ আরভিন। মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

চতুর্থ উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধভেরে ৮২ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন। তবে ৬৭ বলে ২৫ রান করা কাইয়াকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন তাসকিন।

এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়ে দলকে একশ রানে পৌঁছে দেন মাধভেরে। তবে ১টি ছক্কায় ১১ রান করা রাজাকে তানভীর ইসলাম ফিরিয়ে দিলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ক্লাইভ মাদান্দেও মাত্র ১ রান করে শরিফুলের শিকার হন।

একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান মাধভেরে। ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন তিনি এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে ব্যক্তিগত ৭৫ রানে তানভীর ইসলামের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। ৭৪ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।

শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স একাই লড়াই চালিয়ে যান। অষ্টম উইকেটে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার সঙ্গে ২০ এবং নবম উইকেটে আর্নেস্ট মাসুকুকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন। মাত্র ৪১ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেওয়া ইভান্স শেষ পর্যন্ত ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ বলে ৫০ রান করে শরিফুল ইসলামের শিকার হন। এরপর ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ৪৪ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট এবং একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। প্রথম ১০ ওভারে তারা যোগ করেন ৫৯ রান। এরপর ১৯তম ওভারে উদ্বোধনী জুটিতেই দলকে শতরানে পৌঁছে দেন।

ইনিংসের মাঝে ব্যক্তিগত ২৭ ও ৩৭ রানে জীবন পেলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৯ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। অন্যদিকে ৬৪ বলে নিজের ১৫তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য।

২৮তম ওভারে দলীয় ১৫১ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তানাকা চিভাঙ্গা। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮২ বলে ৬৯ রান করে বোল্ড হন সৌম্য।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিতের পথ সহজ করেন তানজিদ। তবে জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১০১ বলে ৯৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আর্নেস্ট মাসুকুর বলে আউট হন তিনি।

এরপর তাওহিদ হৃদয় কোনো রান না করেই মাসুকুর দ্বিতীয় শিকার হন। শেষ পর্যন্ত নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ এবং নুরুল হাসান শূন্য রানে অপরাজিত থেকে দলের ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে মাসুকু দুটি এবং চিভাঙ্গা একটি উইকেট নেন।

দুর্দান্ত ৯৪ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বাংলাদেশের তানজিদ হাসান। আর সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার ব্র্যাড ইভান্স।

এদিকে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আবারও মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ