চীন সফরে তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের জন্য বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে ধন্যবাদ জানানো হয়েছিল। তবে সফরের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন—কোনো বিষয়েই বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিশ্রুতি পায়নি।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ভেতরে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সরকার কার্যকর সহযোগিতা পাবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারকে আর ঋণ না দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।
তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রংপুর থেকেই গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সকলের দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কি হয়েছিল- বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেই গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন সেই গণভোটের সাথেই প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি গণতন্ত্রের সাথে প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারো বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসন কিংবা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং সীমান্তে পুশইন ও হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জাতীয়তাবাদের দাবি জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে তার বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দাবিতে শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেই আন্দোলন সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রংপুরের জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিরোধী দলের আসন বেশি হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে রংপুর বিভাগের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, বরং অধিকাংশ বরাদ্দ বগুড়ার শিবগঞ্জে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, আগে গোপালগঞ্জকে ঘিরে যে উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ ছিল, এখন তা বগুড়ার শিবগঞ্জকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তুলনায় বিরোধী দলের এমপিরা উন্নয়ন বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশও পাচ্ছেন না।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ভেতরে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সরকার কার্যকর সহযোগিতা পাবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারকে আর ঋণ না দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।
তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রংপুর থেকেই গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সকলের দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কি হয়েছিল- বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেই গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন সেই গণভোটের সাথেই প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি গণতন্ত্রের সাথে প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারো বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসন কিংবা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং সীমান্তে পুশইন ও হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জাতীয়তাবাদের দাবি জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে তার বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দাবিতে শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেই আন্দোলন সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রংপুরের জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিরোধী দলের আসন বেশি হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে রংপুর বিভাগের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, বরং অধিকাংশ বরাদ্দ বগুড়ার শিবগঞ্জে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, আগে গোপালগঞ্জকে ঘিরে যে উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ ছিল, এখন তা বগুড়ার শিবগঞ্জকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তুলনায় বিরোধী দলের এমপিরা উন্নয়ন বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশও পাচ্ছেন না।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
