নতুন এআই মডেল বৃহস্পতিবার সবার জন্য উন্মুক্ত করছে ওপেনএআই
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সর্বাধুনিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জিপিটি-৫.৬ বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন সরকারও মডেলটির ব্যাপক পরিসরে প্রকাশের পথে আর বাধা দিচ্ছে না।
ওপেনএআইয়ের নতুন জিপিটি-৫.৬ সিরিজ এবং অ্যানথ্রপিকের মিথোস সিরিজের উন্নত এআই মডেলগুলোকে ঘিরে গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এসব মডেল সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সাইবার অপরাধীরা অপব্যবহার করতে পারে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ওপেনএআই জুনের শেষ দিকে জানায়, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা জিপিটি-৫.৬-এর প্রিভিউ সংস্করণ সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করেছিল।
বৃহৎ ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম) হলো সেই প্রযুক্তি, যার ভিত্তিতে চ্যাটবটসহ আধুনিক এআই টুলগুলো পরিচালিত হয়। বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাই এ প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
জিপিটি-৫.৬ সিরিজে তিনটি সংস্করণ রয়েছে। ‘সোল’ হচ্ছে কোম্পানির নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল, ‘টেরা’ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মধ্যম ক্ষমতার সংস্করণ এবং ‘লুনা’ দ্রুতগতির ও তুলনামূলক কম খরচের সংস্করণ।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই জানায়, ‘জিপিটি-৫.৬ সোল, টেরা ও লুনা—তিনটিই বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রিভিউ সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে।’ তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬-এর ব্যাপক উন্মুক্তকরণের অনুমতি দিয়েছে।
তবে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, মডেলটি উন্মুক্ত করার বিষয়টি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়। তিনি জানান, ওপেনএআই স্বেচ্ছায় পর্যালোচনার জন্য তাদের মডেল সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল।
উন্নত এআই মডেল নিয়ে মতপার্থক্য
ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই মডেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও মতবিরোধ রয়েছে। একদল কর্মকর্তা এ খাতে সরকারের সীমিত হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে আরেকদল জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকও।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওয়াশিংটন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেবল-৫ ও মিথোস-৫ মডেলের প্রকাশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় সেগুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হবে।
মিথোস বাজারে আসার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এআই খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তুলনামূলক কম বিধিনিষেধের নীতিতে ছিল, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।
তবে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশের আলোকে কোন ধরনের এআই মডেলের ওপর নতুন নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে সরকার মানদণ্ড নির্ধারণের কাজ করছে।
ওপেনএআই জুনে জানিয়েছিল, ‘আমরা মনে করি না, দীর্ঘমেয়াদে সরকারি পর্যালোচনার এ ধরনের প্রক্রিয়াই নিয়মিত পদ্ধতি হওয়া উচিত। এতে ব্যবহারকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যাদের এসব উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন, তারা সেরা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হন।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন মডেল উন্মুক্ত করার জন্য একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য কাঠামো তৈরিতে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে, যা সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘টেরা’ মডেলটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলে এর ব্যবহারমূল্য জিপিটি-৫.৫-এর তুলনায় অর্ধেক হবে। অ্যানথ্রপিক ও গুগলের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গ্রাহক ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গোপনীয়ভাবে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) নথি জমা দিয়েছে। প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়ে তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
ওপেনএআইয়ের নতুন জিপিটি-৫.৬ সিরিজ এবং অ্যানথ্রপিকের মিথোস সিরিজের উন্নত এআই মডেলগুলোকে ঘিরে গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এসব মডেল সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সাইবার অপরাধীরা অপব্যবহার করতে পারে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ওপেনএআই জুনের শেষ দিকে জানায়, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা জিপিটি-৫.৬-এর প্রিভিউ সংস্করণ সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করেছিল।
বৃহৎ ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম) হলো সেই প্রযুক্তি, যার ভিত্তিতে চ্যাটবটসহ আধুনিক এআই টুলগুলো পরিচালিত হয়। বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাই এ প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
জিপিটি-৫.৬ সিরিজে তিনটি সংস্করণ রয়েছে। ‘সোল’ হচ্ছে কোম্পানির নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল, ‘টেরা’ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মধ্যম ক্ষমতার সংস্করণ এবং ‘লুনা’ দ্রুতগতির ও তুলনামূলক কম খরচের সংস্করণ।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই জানায়, ‘জিপিটি-৫.৬ সোল, টেরা ও লুনা—তিনটিই বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রিভিউ সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে।’ তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬-এর ব্যাপক উন্মুক্তকরণের অনুমতি দিয়েছে।
তবে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, মডেলটি উন্মুক্ত করার বিষয়টি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়। তিনি জানান, ওপেনএআই স্বেচ্ছায় পর্যালোচনার জন্য তাদের মডেল সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল।
উন্নত এআই মডেল নিয়ে মতপার্থক্য
ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই মডেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও মতবিরোধ রয়েছে। একদল কর্মকর্তা এ খাতে সরকারের সীমিত হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে আরেকদল জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকও।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওয়াশিংটন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেবল-৫ ও মিথোস-৫ মডেলের প্রকাশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় সেগুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হবে।
মিথোস বাজারে আসার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এআই খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তুলনামূলক কম বিধিনিষেধের নীতিতে ছিল, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।
তবে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশের আলোকে কোন ধরনের এআই মডেলের ওপর নতুন নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে সরকার মানদণ্ড নির্ধারণের কাজ করছে।
ওপেনএআই জুনে জানিয়েছিল, ‘আমরা মনে করি না, দীর্ঘমেয়াদে সরকারি পর্যালোচনার এ ধরনের প্রক্রিয়াই নিয়মিত পদ্ধতি হওয়া উচিত। এতে ব্যবহারকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যাদের এসব উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন, তারা সেরা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হন।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন মডেল উন্মুক্ত করার জন্য একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য কাঠামো তৈরিতে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে, যা সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘টেরা’ মডেলটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলে এর ব্যবহারমূল্য জিপিটি-৫.৫-এর তুলনায় অর্ধেক হবে। অ্যানথ্রপিক ও গুগলের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গ্রাহক ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গোপনীয়ভাবে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) নথি জমা দিয়েছে। প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়ে তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
