ATN
শিরোনাম
  •  

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর বিতর্কে মিশর কোচ হোসাম হাসান

         
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর বিতর্কে মিশর কোচ হোসাম হাসান

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর বিতর্কে মিশর কোচ হোসাম হাসান

বিশ্বকাপের মঞ্চে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারার হতাশা ও ক্ষোভ সামাল দেওয়া সহজ নয়। আর প্রতিপক্ষ যদি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সেই হার আসে শেষ ষোলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, তাহলে আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ক্ষেত্রেও ঘটেছে ঠিক এমনটাই। তবে আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিযোগে এবার তাকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় যেন ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।

কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলাই, সেটিরই আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখা যায় আটলান্টার সেই রাতে। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের টানা তিন গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফিরে এসে তারা নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

তবে ম্যাচটি শুধু নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয়, বিতর্কের কারণেও আলোচনায় আসে। আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের আক্রমণের সময় মিশরের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন ম্যাচ রেফারি। ওই সিদ্ধান্তে মাঠেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের ফুটবলাররা। বিতর্কিত রেফারিং ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

ম্যাচ চলাকালে ডাগআউটে আচরণের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন হোসাম হাসান। পাশাপাশি গ্যালারির দিকে তার কিছু অঙ্গভঙ্গিও সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ম্যাচ শেষে।

ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু ছিটান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলাবিধিতে এমন আচরণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে পড়ে। একই ধরনের অপরাধের মধ্যে আঘাত, লাথি, কামড় বা ঘুষিও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের অপরাধে ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অথবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হোসাম হাসান। চলতি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন সময়ে তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার সময় তার সামনে আর্জেন্টিনার কয়েকজন সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে। জানতে চাওয়া হয়, ফিলিস্তিন বিষয়ে তার অবস্থানের কারণে রেফারিংয়ে মিশর কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। তবে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাই তুলে ধরেন মিশরের কোচ।

হোসাম হাসান বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই, ফুটবল মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করুক।”

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ