ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রসঙ্গে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তিনি জানান, কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর আরও আটটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের চিত্রও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি।
তিনি আরও জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৩ বছর ৭ মাস। ৪৫তম বিসিএসে তা কমে হয় ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই প্রকাশ করা।
একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাব রাখা হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রসঙ্গে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তিনি জানান, কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর আরও আটটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের চিত্রও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি।
তিনি আরও জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৩ বছর ৭ মাস। ৪৫তম বিসিএসে তা কমে হয় ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই প্রকাশ করা।
একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাব রাখা হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
