এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ফ্রান্স
কিলিয়ান এমবাপ্পের করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। শেষ আটে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশেষ করে এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে আটকে রাখায় স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি দিদিয়ের দেশ্যমের দল। পুরো ম্যাচে বলের দখল ফ্রান্সের থাকলেও জেদি রক্ষণভাগ ভাঙতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডিসায়ার ডুয়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পেনাল্টি দেওয়া হয়। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে জয়সূচক গোল করেন এমবাপ্পে।
আগের ম্যাচগুলোর মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল এদিন দেখা যায়নি ফ্রান্সের কাছ থেকে। এর বড় কারণ ছিল প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ। তবে বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য ছিল লেস ব্লুজদেরই। অন্যদিকে পুরো ৯০ মিনিটে প্যারাগুয়ে গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৯ ম্যাচে ১৯টি, যা মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম।
এখন বোস্টনে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে ফ্রান্স। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা আগের ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝড়ের আশঙ্কায় চরম আবহাওয়া সতর্কতাও জারি ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ম্যাচে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এর আগে গ্রুপ পর্বে একই ভেন্যুতে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে খেলা শুরু হলে ৩-০ গোলের জয় পায় ফরাসিরা।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়ে আগের রাউন্ডে টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় দিয়ে চমক দেখিয়েছিল। এবারও আরেকটি শক্তিশালী দলকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে তারা।
পাঁচজনের রক্ষণভাগ নিয়ে নিচু ব্লকে খেলেছে প্যারাগুয়ে। প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের পরিচিত কৌশলী ও কঠোর ফাউলের আশ্রয়ও নিয়েছে তারা, যা ফ্রান্সের আক্রমণের গতি অনেকটাই থামিয়ে দেয়।
এতে একসময় হতাশ হয়ে পড়েন এমবাপ্পে। ম্যাচের এক পর্যায়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।
বল দখলে আধিপত্য থাকলেও খুব বেশি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার একটি শট ডিফ্লেক্ট হয়ে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বিরতির পর আরেকটি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।
মাইকেল ওলিসে ও ওসমান দেম্বেলে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে না পারায় এক ঘণ্টা পর কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে ডিসায়ার ডুয়েকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মাঠে নেমেই কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দিয়েগো গোমেজের ফাউলের শিকার হন ডুয়ে। ভিএআর পর্যালোচনার পর উজবেকিস্তানের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমবাপ্পে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন।
যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন এমবাপ্পে। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও একই পর্যায়ে প্যারাগুয়েকে হারাতে ফ্রান্সের প্রয়োজন হয়েছিল একটি গোল্ডেন গোল। সেই আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ফরাসিরা।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশেষ করে এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে আটকে রাখায় স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি দিদিয়ের দেশ্যমের দল। পুরো ম্যাচে বলের দখল ফ্রান্সের থাকলেও জেদি রক্ষণভাগ ভাঙতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডিসায়ার ডুয়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পেনাল্টি দেওয়া হয়। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে জয়সূচক গোল করেন এমবাপ্পে।
আগের ম্যাচগুলোর মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল এদিন দেখা যায়নি ফ্রান্সের কাছ থেকে। এর বড় কারণ ছিল প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ। তবে বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য ছিল লেস ব্লুজদেরই। অন্যদিকে পুরো ৯০ মিনিটে প্যারাগুয়ে গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৯ ম্যাচে ১৯টি, যা মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম।
এখন বোস্টনে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে ফ্রান্স। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা আগের ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝড়ের আশঙ্কায় চরম আবহাওয়া সতর্কতাও জারি ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ম্যাচে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এর আগে গ্রুপ পর্বে একই ভেন্যুতে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে খেলা শুরু হলে ৩-০ গোলের জয় পায় ফরাসিরা।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়ে আগের রাউন্ডে টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় দিয়ে চমক দেখিয়েছিল। এবারও আরেকটি শক্তিশালী দলকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে তারা।
পাঁচজনের রক্ষণভাগ নিয়ে নিচু ব্লকে খেলেছে প্যারাগুয়ে। প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের পরিচিত কৌশলী ও কঠোর ফাউলের আশ্রয়ও নিয়েছে তারা, যা ফ্রান্সের আক্রমণের গতি অনেকটাই থামিয়ে দেয়।
এতে একসময় হতাশ হয়ে পড়েন এমবাপ্পে। ম্যাচের এক পর্যায়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।
বল দখলে আধিপত্য থাকলেও খুব বেশি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার একটি শট ডিফ্লেক্ট হয়ে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বিরতির পর আরেকটি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।
মাইকেল ওলিসে ও ওসমান দেম্বেলে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে না পারায় এক ঘণ্টা পর কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে ডিসায়ার ডুয়েকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মাঠে নেমেই কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দিয়েগো গোমেজের ফাউলের শিকার হন ডুয়ে। ভিএআর পর্যালোচনার পর উজবেকিস্তানের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমবাপ্পে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন।
যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন এমবাপ্পে। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও একই পর্যায়ে প্যারাগুয়েকে হারাতে ফ্রান্সের প্রয়োজন হয়েছিল একটি গোল্ডেন গোল। সেই আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ফরাসিরা।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
