ATN
শিরোনাম
  •  

আলোচনার মধ্যেই গালিবাফ-আরাঘচিকে হত্যার আশঙ্কা, ইরানকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

         
আলোচনার মধ্যেই গালিবাফ-আরাঘচিকে হত্যার আশঙ্কা, ইরানকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

গালিবাফ-আরাঘচি

ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে-এমন আশঙ্কায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফকে হত্যা করা হতে পারে-এমন আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ছিল তীব্র। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি যদি এই ব্যক্তিদের হত্যা করেন, তাহলে বাস্তববাদীদেরই হত্যা করবেন।’ তার দাবি, সম্ভাব্য আলোচনার পথ খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইসরায়েলকে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযান না চালানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ইসরায়েলকে সতর্ক করেই থেমে থাকেনি ওয়াশিংটন; সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইরানকেও সতর্ক করা হয়েছিল। তাদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানের পার্থক্য এবং যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশের মতভেদের ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তার ভাষ্য, ইসরায়েলের পদক্ষেপ সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট চান শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের আলোচনায় আব্বাস আরাঘচি এবং মোহাম্মদ গালিবাফই ছিলেন মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রধান যোগাযোগের ব্যক্তি। তবে সম্ভাব্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তা নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আপত্তি দেখা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের একাধিক হামলায় গালিবাফ লক্ষ্যবস্তু হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। একই ধরনের তথ্য এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-ও প্রকাশ করেছিল।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস

পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ