বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করায় কলকাতার ইসকন মুখপাত্র বহিষ্কার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কলকাতা শাখার সহ-সভাপতি রাধারমণ দাসকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নিপীড়নের অভিযোগ এবং সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা জনসম্মুখে সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিভিন্ন বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যের জের ধরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইসকন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, রাধারমণ দাসের মতামতের জন্য নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন বারবার লঙ্ঘন করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসকন বলেছে, রাধারমণ দাসকে ‘বাধ্যতামূলক ছুটিতে’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যেন সংস্থার পক্ষে কোনও ধরনের বক্তব্য বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, ১০০টিরও বেশি দেশে পরিচালিত বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে ইসকন তার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম, মানদণ্ড ও নৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে রাধারমণ দাসকে ‘একাধিকবার অনুরোধ’ করার পরও কোনও পরিবর্তন না আসায় এই সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
ইসকন বলেছে, রাধারমণ দাস প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছেন, সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পরিপন্থী একতরফা কাজ এবং তার এখতিয়ারের বাইরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, তার নেওয়া কিছু পদক্ষেপ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সদস্যদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বলেছে, বাধ্যতামূলক ছুটির এই সময়ে রাধারমণ দাসকে তার কাজের ধরন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার এবং তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইসকনের বিবৃতির পরপরই রাধারমণ দাস বলেছেন, তাকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ বা জনসম্মুখে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘আমি কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই এবং আমাকে দেওয়া নির্দেশনাবলি মেনে চলব।’’ তিনি এখন থেকে আর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জনসমক্ষে কোনও বক্তব্য দেবেন না।
তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে যে ছয়টি কারণ দর্শানো হয়েছে, রাধারমণ দাস তার একটি তালিকা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু ও ভক্তদের ওপর কথিত নির্যাতনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানো, ইসকন কসাইদের কাছে গরু বিক্রি করে—সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর এমন অভিযোগের পর তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং ইসকন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে কমেডিয়ান সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের করার বিষয় রয়েছে।
কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের আওতাধীন স্কুলে দুপুরের খাবার তৈরি ও বিতরণে ইসকন সহায়তা করবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা দেওয়ার পরপর সংগঠনটি রাধারমণ দাসকে বহিষ্কার করলো।
গত কয়েক বছরে কলকাতায় ইসকনের অন্যতম প্রধান চেনা মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন রাধারমণ দাস। তিনি প্রায়ই সংগঠনের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা, সনাতন ধর্ম এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করতেন।
রাধারমণ দাস এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পেছনে তার প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন। যদিও ইসকন বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন, অননুমোদিত বক্তব্য এবং এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করায় তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাধারমণ দাস বলেন, ‘‘বছরের পর বছর ধরে আমি যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসকনের ক্রমাগত সমৃদ্ধি ও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করি।’’
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিভিন্ন বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যের জের ধরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইসকন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, রাধারমণ দাসের মতামতের জন্য নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন বারবার লঙ্ঘন করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসকন বলেছে, রাধারমণ দাসকে ‘বাধ্যতামূলক ছুটিতে’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যেন সংস্থার পক্ষে কোনও ধরনের বক্তব্য বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, ১০০টিরও বেশি দেশে পরিচালিত বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে ইসকন তার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম, মানদণ্ড ও নৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে রাধারমণ দাসকে ‘একাধিকবার অনুরোধ’ করার পরও কোনও পরিবর্তন না আসায় এই সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
ইসকন বলেছে, রাধারমণ দাস প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছেন, সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পরিপন্থী একতরফা কাজ এবং তার এখতিয়ারের বাইরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, তার নেওয়া কিছু পদক্ষেপ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সদস্যদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বলেছে, বাধ্যতামূলক ছুটির এই সময়ে রাধারমণ দাসকে তার কাজের ধরন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার এবং তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইসকনের বিবৃতির পরপরই রাধারমণ দাস বলেছেন, তাকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ বা জনসম্মুখে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘আমি কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই এবং আমাকে দেওয়া নির্দেশনাবলি মেনে চলব।’’ তিনি এখন থেকে আর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জনসমক্ষে কোনও বক্তব্য দেবেন না।
তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে যে ছয়টি কারণ দর্শানো হয়েছে, রাধারমণ দাস তার একটি তালিকা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু ও ভক্তদের ওপর কথিত নির্যাতনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানো, ইসকন কসাইদের কাছে গরু বিক্রি করে—সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর এমন অভিযোগের পর তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং ইসকন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে কমেডিয়ান সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের করার বিষয় রয়েছে।
কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের আওতাধীন স্কুলে দুপুরের খাবার তৈরি ও বিতরণে ইসকন সহায়তা করবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা দেওয়ার পরপর সংগঠনটি রাধারমণ দাসকে বহিষ্কার করলো।
গত কয়েক বছরে কলকাতায় ইসকনের অন্যতম প্রধান চেনা মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন রাধারমণ দাস। তিনি প্রায়ই সংগঠনের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা, সনাতন ধর্ম এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করতেন।
রাধারমণ দাস এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পেছনে তার প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন। যদিও ইসকন বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন, অননুমোদিত বক্তব্য এবং এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করায় তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাধারমণ দাস বলেন, ‘‘বছরের পর বছর ধরে আমি যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসকনের ক্রমাগত সমৃদ্ধি ও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করি।’’
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
