ইতিহাস গড়লেন মেসি, জর্ডানকে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা
যাদুকর তার ঝুলি থেকে যখন একের পর এক সাদা পায়রা, খরগোশ, রঙিন রেশমি রুমাল অথবা অন্তহীন লম্বা রঙিন ফিতা বের করেন, তখন মন্ত্রমুগ্ধের মতো মায়াজালে জড়িয়ে সেই যাদু উপভোগ করেন দর্শকরা। লিওনেল মেসি যেন ফুটবল মাঠের সেই যাদুকর। সবুজ মাঠ যেন তার জাদুর মঞ্চ, আর বলটি তার হাতের ইশারায় চলা জাদুর কাঠি। বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে যতক্ষণ মাঠে নামেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, যেন সেই যাদু দেখা থেকে বঞ্চিত ছিলেন দর্শকেরা।
লাওতারো মার্তিনেজের বদলি হিসেবে যখন ডালাস স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে নামলেন মেসি, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের শরীরে যেন প্রাণ ফিরে এল! সত্যি বলতে ডালাস স্টেডিয়াম এদিন রূপ নিয়েছিল এক টুকরা বুয়েনস এইরেসে। আকাশী নীল সমুদ্রের গর্জনে ভেসে যাওয়া আর্জেন্টিনা এ দিন ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জর্ডানকে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয়, ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পা রাখল নকআউট পর্বে। ৪ জুলাই মায়ামিতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
আগের ম্যাচ থেকে ৯ পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসিকে শুরুর একাদশে না দেখে ডালাস স্টেডিয়ামে আসা অনেক সমর্থকের মনেই হয়তো কিছুটা খটকা জেগেছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি আর্জেন্টিনা। বেঞ্চ থেকে এসে মেসির রেকর্ড গড়া গোল আর জিওভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের দারুণ নৈপুণ্যেজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
৬ মিনিটেই হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে জালে বল পাঠিয়েছিলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে উদ্যাপনে কিছুটা বিলম্ব হয় তার। সেই আক্ষেপ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ পায়ের মাপা ও বাঁকানো শটে জর্ডানের প্রাচীর ভেদ করে বল জালে জড়ান লো সেলসো নিজেই। জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা পজিশন নিতে ভুল করায় কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তাঁর। বিশ্বকাপে এটা ছিল লো সেলসোর প্রথম গোল।
এরপর ৩০ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জর্ডানের আল-রাশদান ক্লিয়ার করতে গিয়ে মার্কোস সেনেসির মুখে বুট লাগান। ভিএআরের পর মাঠের রেফারি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি লাওতারো মার্তিনেজ। জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে নিজের নামের পাশে গোল যোগ করেন তিনি। তার এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর মুসা আর–তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোল পেয়েছেন বদলি হিসেবে নামা এই ফুটবলার। এ নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের তিন ম্যাচেই গোল পেল জর্ডান।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করেন মেসি। যে গোলে গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড। আবারও ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেছেন তিনি, মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি। তিনি ভেঙে দেন ফ্রান্সের জাঁ ফতেইন ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর রেকর্ড। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে এক হ্যাটট্রিকসহ ৬ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
লাওতারো মার্তিনেজের বদলি হিসেবে যখন ডালাস স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে নামলেন মেসি, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের শরীরে যেন প্রাণ ফিরে এল! সত্যি বলতে ডালাস স্টেডিয়াম এদিন রূপ নিয়েছিল এক টুকরা বুয়েনস এইরেসে। আকাশী নীল সমুদ্রের গর্জনে ভেসে যাওয়া আর্জেন্টিনা এ দিন ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জর্ডানকে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয়, ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পা রাখল নকআউট পর্বে। ৪ জুলাই মায়ামিতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
আগের ম্যাচ থেকে ৯ পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসিকে শুরুর একাদশে না দেখে ডালাস স্টেডিয়ামে আসা অনেক সমর্থকের মনেই হয়তো কিছুটা খটকা জেগেছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি আর্জেন্টিনা। বেঞ্চ থেকে এসে মেসির রেকর্ড গড়া গোল আর জিওভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের দারুণ নৈপুণ্যেজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
৬ মিনিটেই হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে জালে বল পাঠিয়েছিলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে উদ্যাপনে কিছুটা বিলম্ব হয় তার। সেই আক্ষেপ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ পায়ের মাপা ও বাঁকানো শটে জর্ডানের প্রাচীর ভেদ করে বল জালে জড়ান লো সেলসো নিজেই। জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা পজিশন নিতে ভুল করায় কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তাঁর। বিশ্বকাপে এটা ছিল লো সেলসোর প্রথম গোল।
এরপর ৩০ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জর্ডানের আল-রাশদান ক্লিয়ার করতে গিয়ে মার্কোস সেনেসির মুখে বুট লাগান। ভিএআরের পর মাঠের রেফারি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি লাওতারো মার্তিনেজ। জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে নিজের নামের পাশে গোল যোগ করেন তিনি। তার এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর মুসা আর–তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোল পেয়েছেন বদলি হিসেবে নামা এই ফুটবলার। এ নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের তিন ম্যাচেই গোল পেল জর্ডান।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করেন মেসি। যে গোলে গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড। আবারও ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেছেন তিনি, মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি। তিনি ভেঙে দেন ফ্রান্সের জাঁ ফতেইন ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর রেকর্ড। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে এক হ্যাটট্রিকসহ ৬ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
