ATN
শিরোনাম
  •  

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি

         
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে আলোচনা শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেগুলো বিশ্ববাজারের জন্য বিপুল পরিমাণ তেল বহন করছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ছেড়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, রোববার থেকেই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ওই শর্তে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়। মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কোনো বাস্তব লক্ষণ নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশা প্রকাশ করেছেন যে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে এবং আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি আনতে পারে।

আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু ছাড়াও লেবাননের যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই প্রক্রিয়াকে দুই দেশ চার মাস ধরে চলা সংঘাত নিরসনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, পাশাপাশি নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনা কয়েক দিন চলতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এমন ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ