ATN
শিরোনাম
  •  

বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

         
বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পরদিনই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে রোববার (২১ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমান দায়িত্ব যথাযথভাবে হস্তান্তর করে নির্ধারিত সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিতে হবে।

মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স এবং ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি খুলনা নগরের লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, কোনো পুলিশ সদস্য—দারোগা বা ইনস্পেক্টর—যদি সাধারণ মানুষের দেওয়া গোপন তথ্য ফাঁস করেন, তাহলে তিনি নিজেই ওই কর্মকর্তাকে ‘গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেবেন, আপনারা পিটিয়ে মারবেন।’ বক্তব্যে তিনি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন এবং স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার একপর্যায়ে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সবসময় পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। জনসমক্ষে দেওয়া যেকোনো মন্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা এবং জনগণের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধিমালা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করাই গ্রহণযোগ্য পন্থা। একই সঙ্গে সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তবে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, জনগণের মধ্যে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

তার ভাষ্যমতে, বক্তব্যের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছিলেন, কেউ তথ্য ফাঁস করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ