ATN
শিরোনাম
  •  

খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা–ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩ পুলিশ সদস্য

         
খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা–ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩ পুলিশ সদস্য

খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা–ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩ পুলিশ সদস্য

রাজশাহীর মতিহার থানার বিনোদপুর বাজারে ‘বাংলা টিফিন’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার পার্সেল দিতে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিনোদপুর বাজার ও মন্ডলের মোড় এলাকায় এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মতিহার থানার কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন রয়েছেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিনোদপুর বাজারের ‘বাংলা টিফিন’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যান। খাবার শেষে তিনি কিছু খাবার পার্সেল নেওয়ার জন্য অর্ডার দেন। তখন রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা জানান, খাবার প্রস্তুত করতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগবে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রমজান আলী পার্সেল না নিয়েই হোটেল ত্যাগ করেন।

এর কিছুক্ষণ পর একদল যুবক রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। তারা হোটেলটিতে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি পরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। একই সময়ে মন্ডলের মোড়ে অবস্থিত ‘বঙ্গভোজ’ নামের আরেকটি হোটেলেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করেও দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া হামলার ঘটনায় কয়েকজন হোটেল কর্মচারীও আহত হন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

‘বাংলা টিফিন’-এর মালিক শাকিল বলেন, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন হামলা ও তাণ্ডবের কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও হাতবোমা নিক্ষেপ করেছে, ফলে পুলিশ সদস্য ও হোটেলের কর্মচারীরা আহত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রমজান আলী বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হোটেলে রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং পরে একটি পার্সেলের অর্ডার দেন। এ সময় হোটেল কর্মচারীদের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পরে কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে তিনি হোটেল মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ওসি কবির হোসেন জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স

পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ