ATN
শিরোনাম
  •  

সাইবারির দ্রুততম গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে মরক্কো

         
সাইবারির দ্রুততম গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে মরক্কো

সাইবারির দ্রুততম গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে মরক্কো

ইসমাইল সাইবারির এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের সুবাদে শুক্রবার স্কটল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে মরক্কো। গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে জিলেট স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা মরক্কোর হয়ে সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী সাইবারি। ৬৪ হাজার ১৪৬ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দুই দলের মধ্যে শারীরিক লড়াই ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো।

স্পেনে জন্ম নেওয়া এবং বেলজিয়ামে বেড়ে ওঠা সাইবারি বর্তমানে ডাচ চ্যাম্পিয়ন পিএসভি এইনডোভেনের খেলোয়াড়। ইতোমধ্যেই ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের শুরুতেই স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাস্ত করে সাইবারি আবারও দেখিয়ে দেন কেন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। শুরুর ধাক্কা সামলে স্কটল্যান্ড আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। প্রতিপক্ষের বক্সে কয়েকটি আক্রমণ চালালেও সেগুলো ছিল বেশ এলোমেলো এবং গোলের দেখা পায়নি তারা। একই সঙ্গে এই ম্যাচে ফুটে উঠেছে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে মরক্কোর ৫ম এবং স্কটল্যান্ডের ৪০তম অবস্থানের পার্থক্যও।

দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল মরক্কো। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

অন্যদিকে পুরো ম্যাচে স্কটিশ ফরোয়ার্ডরা মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে উল্লেখযোগ্যভাবে মাত্র একবারই পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম হয়। একই ভেন্যুতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। সেই জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোনোর স্বপ্ন দেখলেও এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা।

ব্রাজিল ম্যাচের একাদশে কোনো পরিবর্তন না এনে দল সাজান মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। বিপরীতে স্কটল্যান্ডের কোচ স্টিভ ক্লার্ক করেন তিনটি পরিবর্তন। রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করতে স্ট্রাইকার লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে বাইরে রেখে ডিফেন্ডার কিয়েরান টিয়ার্নিকে দলে নেন এবং পাঁচজনের ডিফেন্স গড়ে তোলেন। তবে সেই কৌশল ম্যাচের শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে যায়, যখন দ্রুত গোল করে এগিয়ে যায় মরক্কো।

গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের। গ্রান্ট হ্যানলি অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে ব্যর্থ হলে সুযোগটি কাজে লাগান সাইবারি। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান তিনি।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো। এবারও আক্রমণে উঠলেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছিল তারা। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় ব্যবধান আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ৩৬তম মিনিটে বিলাল এল খান্নুস একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড পুরো প্রথমার্ধে আক্রমণে ছিল নিষ্প্রভ। যোগ করা সময় পর্যন্তও তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের একটি চমৎকার ক্রস থেকেও জন ম্যাকগিন গোল আদায় করতে ব্যর্থ হন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে মরক্কো। বিরতির পাঁচ মিনিট পর এল খান্নুসের কাট-ব্যাক পাস থেকে সাইবারির নেওয়া শট জ্যাক হেন্ড্রির গায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর অ্যাঙ্গাস গান দুর্দান্ত এক সেভে এল খান্নুসের হেড ঠেকিয়ে দেন। কর্নারটি নিয়েছিলেন আশরাফ হাকিমি, যাকে ম্যাচজুড়ে দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয়।

৬৪তম মিনিটে স্কটল্যান্ড সমতায় ফেরার একটি ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি রায়ান ক্রিস্টি। স্কট ম্যাকটমিনের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে তার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ