ATN
শিরোনাম
  •  

বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছি: মেসি

         
বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছি: মেসি

বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছি: মেসি

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির জাদু নতুন কিছু নয়। কাতার বিশ্বকাপে তার বাঁ পায়ের কারুকাজেই দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আরেকটি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে নেমে সেই চেনা, ক্ষুধার্ত মেসিকেই যেন আবার দেখল ফুটবল বিশ্ব।

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অতিমানবীয় এই পারফরম্যান্সে রেকর্ডের পর রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

তবে ম্যাচ শেষে দেখা গেল ভিন্ন এক মেসিকে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা বড় জয় দিয়ে শুরু হলেও তিনি প্রকাশ করেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন এক মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় মেসি বলেন, সত্যি বলতে, ফুটবলের বাইরের কিছু কারণে আমি জটিল ও কঠিন কিছু দিন পার করেছি। পুরো দল, কোচিং স্টাফ এবং আমার সতীর্থদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে এবং তাদের সমর্থনই আমাকে শক্তি দিয়েছে।

তবে মাঠের পারফরম্যান্স দেখে সেই কঠিন সময়ের কোনো ছাপ বোঝার উপায় ছিল না। তিনটি গোল করে দলের বড় জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে মেসি বলেন, আমরা জানতাম এটি সহজ ম্যাচ হবে না। তাদের দলে দ্রুতগতির এবং পরিশ্রমী কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা বল পেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সৌভাগ্যবশত আমরা শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যেতে পেরেছি এবং এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু হলেও সামনের পথকে মোটেও সহজ মনে করছেন না ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। তার মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

মেসি বলেন, গত বিশ্বকাপ থেকেই আমরা বুঝেছি, এখানে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। প্রতিটি দলই শক্তিশালী, সংগঠিত এবং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুত। তাই প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

বয়স এখন প্রায় ৩৯-এর কাছাকাছি। এতদিন পরও মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পান—এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটি আমার সবচেয়ে বড় প্যাশন। যখন আমি ভালো অনুভব করি, তখন নিজের সবটুকু দিতে চাই। আমরা এখন রাফায়েল নাদালের সিরিজ দেখছি এবং তার সঙ্গে নিজের অনেক মিল খুঁজে পাই। কারণ আমিও সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং ভালো অনুভব করতে চাই। এভাবেই আমি খেলাটা উপভোগ করি। যতদিন ফিট থাকব এবং খেলার সামর্থ্য থাকবে, ততদিন মাঠে থাকতে চাই।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে গেছেন মেসি। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেসির ভাষায়, সেই তালিকায় থাকা অবশ্যই সম্মানের বিষয়, বিশেষ করে ক্লোসার মতো একজনের পাশে থাকা। রোনালদোও সেখানে আছেন। তবে আমার কাছে এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান। এমবাপেও সেখানে রয়েছে, আজ সে দুটি গোল করেছে। তাদের সবার সঙ্গে একই তালিকায় থাকতে পারাটা সম্মানের, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এর বেশি কোনো গুরুত্ব আমি দিই না।

এ সময় ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোর কথাও স্মরণ করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি বলেন, রোনালদো সর্বকালের সেরাদের একজন। ছোটবেলায় তার খেলা দেখে আমি মুগ্ধ হতাম। তবু তিনি এই তালিকার শীর্ষে নেই। এটিই প্রমাণ করে বিশ্বকাপের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ এবং কত অসাধারণ খেলোয়াড় এখানে খেলেছেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা হওয়াটাও আমার জন্য বিশেষ সম্মানের।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ