গণভোটের রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আদায় করা হবে: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তা আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ থেকে আদায় করা হবে। উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবির প্রশ্নে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। সংসদের ভেতরে সমাধান হলে সেটাই উত্তম, তবে তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আজ হোক বা কাল, এই দাবি ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়িত হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ শতাংশ, বরং ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সেখানে আমরা সংসদে এসে সেই রায় পরিবর্তন করতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষেই আছি, জনগণের রায়ের পক্ষেই আছি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কমিটির প্রয়োজন নেই। এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিল আকারে আসবে, আলোচনা হবে এবং পরে তা পাস বা বাতিল হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠনের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগেও স্পষ্ট করেছি, সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির প্রয়োজন নেই। কিন্তু সংস্কারের জন্য যদি কোনো প্রস্তাব আসে, তখন আমরা তা বিবেচনা করবো।”
সংসদে বিরোধীদলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোটের বিষয়টি নিয়ে অধিবেশন আহ্বানের দাবি। এ বিষয়ে সংসদে যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংকট নিয়েও তারা সংসদে কথা বলেছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাত—দুটিই গভীর সংকটে রয়েছে। স্টক মার্কেট মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, আর ব্যাংক খাতের যা অবস্থা, সেটাও ভেঙে পড়ার উপক্রম।
প্রবাসীদের সমস্যা নিয়েও সংসদে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধীদল উভয় পক্ষই গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তবে আলোচনা বাস্তবায়নে না গেলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যুতে দেওয়া একটি নোটিশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নোটিশদাতাকে বিষয়টি ‘সেনসিটিভ’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান। সেনসিটিভ বলেই তো এটি আলোচনা করা দরকার—দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। ১৪ তারিখে আলোচনার জন্য কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও পরে বিষয়টি বাদ দিয়ে নতুন কার্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না। আবার সংসদের ভেতরে এমন আচরণও করবো না যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে তাদের কথা বলার জন্য।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় না নেওয়া হলে বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেলে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। আমাদের খুব গরম বিরোধীদল ভাববেন না। আমরা দেশের স্বার্থে একটি যৌক্তিক বিরোধীদল হিসেবে কাজ করতে চাই।
সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে স্পিকারকে দেওয়া একটি প্রস্তাবের কথাও জানান তিনি। তার মতে, ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও প্রশংসা বা মনোরঞ্জনের বিষয়গুলো সংসদীয় আলোচনায় স্থান পাওয়া উচিত নয়। আমরা এখানে কারও প্রশংসা করতে আসিনি, জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবির প্রশ্নে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। সংসদের ভেতরে সমাধান হলে সেটাই উত্তম, তবে তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আজ হোক বা কাল, এই দাবি ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়িত হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ শতাংশ, বরং ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সেখানে আমরা সংসদে এসে সেই রায় পরিবর্তন করতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষেই আছি, জনগণের রায়ের পক্ষেই আছি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কমিটির প্রয়োজন নেই। এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিল আকারে আসবে, আলোচনা হবে এবং পরে তা পাস বা বাতিল হবে। তবে সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠনের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগেও স্পষ্ট করেছি, সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির প্রয়োজন নেই। কিন্তু সংস্কারের জন্য যদি কোনো প্রস্তাব আসে, তখন আমরা তা বিবেচনা করবো।”
সংসদে বিরোধীদলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোটের বিষয়টি নিয়ে অধিবেশন আহ্বানের দাবি। এ বিষয়ে সংসদে যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংকট নিয়েও তারা সংসদে কথা বলেছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাত—দুটিই গভীর সংকটে রয়েছে। স্টক মার্কেট মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, আর ব্যাংক খাতের যা অবস্থা, সেটাও ভেঙে পড়ার উপক্রম।
প্রবাসীদের সমস্যা নিয়েও সংসদে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধীদল উভয় পক্ষই গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তবে আলোচনা বাস্তবায়নে না গেলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যুতে দেওয়া একটি নোটিশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নোটিশদাতাকে বিষয়টি ‘সেনসিটিভ’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান। সেনসিটিভ বলেই তো এটি আলোচনা করা দরকার—দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। ১৪ তারিখে আলোচনার জন্য কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও পরে বিষয়টি বাদ দিয়ে নতুন কার্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না। আবার সংসদের ভেতরে এমন আচরণও করবো না যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে তাদের কথা বলার জন্য।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় না নেওয়া হলে বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেলে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। আমাদের খুব গরম বিরোধীদল ভাববেন না। আমরা দেশের স্বার্থে একটি যৌক্তিক বিরোধীদল হিসেবে কাজ করতে চাই।
সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে স্পিকারকে দেওয়া একটি প্রস্তাবের কথাও জানান তিনি। তার মতে, ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও প্রশংসা বা মনোরঞ্জনের বিষয়গুলো সংসদীয় আলোচনায় স্থান পাওয়া উচিত নয়। আমরা এখানে কারও প্রশংসা করতে আসিনি, জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
