ATN
শিরোনাম
  •  

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না: মির্জা ফখরুল

         
আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না: মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র কখনোই একই পথে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে অতীতের বিভিন্ন সময় এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই দুইয়ের সহাবস্থান সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে প্রতিবছর সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এই কালো দিবস পালন করা হচ্ছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সাংবাদিকরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে দুঃসময়ে সাংবাদিকদের অবদান বিএনপি কখনো ভুলবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ কিছুটা হলেও স্বাধীনতার পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। বর্তমানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারও এ স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যমের মালিক অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টাকে তিনি অসভ্য আচরণ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

দেশে বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ১৯৭৫-৭৬ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য থাকলেও এখনও বহু সাংবাদিক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী দৈনিক বাংলা ও দ্য টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগে নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা বলেন।

বিএনপিকে একটি উদারপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়; এটি একটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটি ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করে না; বরং সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য বিএনপিই সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, বিএনপি ভিন্নমতকে সম্মান করে এবং অতীতে দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ছিল।

আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনামলকে ভয়াবহ দুঃশাসন হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বই প্রকাশিত হলেও সাম্প্রতিক ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদ নিয়ে এখনো তেমন কোনো সংকলিত গ্রন্থ চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে লেখক ও সাংবাদিকদের গবেষণা ও লেখালেখিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, ১৬ জুনের মতো কালো অধ্যায় যেন আর কখনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক জীবনে ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট রাজনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ