ATN
শিরোনাম
  •  

পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

         
পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে তার রাত্রিযাপন ও বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ওই বছরের ১৪ জুন সাভার বোট ক্লাবকাণ্ডে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন পরীমনি। মামলাটির তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। পরে পরীমনির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তাকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে বিদেশি মদসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই ঘটনায় তাকে তিন দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গ্রেফতারের ২৭ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

বিতর্কের জেরে প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়। পরে তাকে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করতেন। ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদান-প্রদান করা বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রমাণ পান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৭ ঘণ্টা পরীমনি সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেন। সেই সময় তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী ঘটনাটি সাকলায়েনের জ্ঞাতসারেই ঘটেছিল।

তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিভাগীয় তদন্তে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে জবাব দেন। তবে সেই জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। পিএসসির পরামর্শ পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ