ATN
শিরোনাম
  •  

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

         
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে নথি প্রস্তুত করছে দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতিসহ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্রিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তার একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।

আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা ও পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য; সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি এবং তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি; আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা; মামলার বিস্তারিত বিবরণ, অপরাধের প্রকৃতি, অভিযোগের তথ্য এবং অপরাধ সংঘটনের স্থান।

তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। আর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি এবং রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, এনসিবি আবুধাবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ