ATN
শিরোনাম
  •  

জর্ডানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

         
জর্ডানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

জর্ডানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।

সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।

এ বিষয়ে জেরাশ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।

অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমন-সংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকি পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের।

সিআইডির দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ