দুবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি জাপান, শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে বিশ্বকাপ শুরু
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে টপকে পরের ধাপে ওঠা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা আগেই উপলব্ধি করেছিল জাপান। তাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের কৌশল ছিল ধৈর্য ধরে খেলা, রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুযোগ এলে তা কাজে লাগানো। মাঠে সেই পরিকল্পনারই সফল বাস্তবায়ন দেখা গেল। দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফ গ্রুপের ম্যাচে সমতায় শেষ হয়েছে দুই দলের লড়াই। ম্যাচের চারটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। তৃতীয় মিনিটেই ডনিয়েল মালেনের শট থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির দৃঢ়তায় রক্ষা পায় দলটি। প্রথমদিকে নিজেদের অর্ধে ব্যস্ত থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পায় জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে আক্রমণের চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে দেয় ডাচ রক্ষণ।
২০ মিনিটের পরও নেদারল্যান্ডসের চাপ অব্যাহত থাকে। মালেন ও কোডি গাকপোর দুটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। অন্যদিকে জাপান অপেক্ষা করছিল নিজেদের সুযোগের। ২৮তম মিনিটে আয়াসে উয়েদা দুর্দান্ত এক পাস পেয়ে ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে আনলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরে হিরোকি ইতোর শটও লক্ষ্যে থাকেনি।
৩৩তম মিনিটে মালেনের আরেকটি আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন শোগো তানিগুচি। সেই কর্নার থেকে মিকি ফন ডে ফেনের শক্তিশালী হেড সুজুকির স্পর্শে দিক পরিবর্তন না করলে গোল হতে পারত। এরপর গাকপোর একটি শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে জাপানও পাল্টা হুমকি তৈরি করে। ৪৩তম মিনিটে তাকেফুসা কুবোর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। পরের মিনিটে দাইচি কামাদার লং পাস থেকে উয়েদা গোলের কাছে পৌঁছালেও ভার্জিল ফন ডাইকের চাপে সফল হতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে মালেনের ফ্রি-কিক সহজেই তালুবন্দি করেন সুজুকি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধে ৬৯ শতাংশ বলের দখল ছিল নেদারল্যান্ডসের। তারা পাঁচটি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। জাপান তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ডাচরা। ৫১তম মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্খের ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বলে নিখুঁত হেডে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক।
তবে জাপানের জবাব আসতে সময় লাগেনি। ৫৭তম মিনিটে তাকেফুসা কুবোর দুর্দান্ত ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো নিচু শটে সমতা ফেরান কেইতো নাকামুরা। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শট থেকেই গোল তুলে নেয় জাপান।
কিন্তু সাত মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল।
দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জাপান। ৬৭তম মিনিটে কুবোর দুর্দান্ত শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন বার্ট ফেরব্রুখেন। অপরদিকে ৭৩তম মিনিটে গাকপোর শট ঠেকিয়ে দেন সুজুকি।
ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে জাপান। ৮০ মিনিটে ইউকিনারি সুগাওয়ারার শট গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ৮৬তম মিনিটে আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণও ব্যর্থ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেড করেন দাইচি কামাদা। বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই ২-২ সমতায় ফেরে জাপান এবং উল্লাসে মেতে ওঠে তাদের সমর্থকেরা।
অতিরিক্ত সময়ে জয়ের জন্য শেষ চেষ্টা চালায় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু জাপানের সংগঠিত রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
স্কোরলাইন সমতা দেখালেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল নেদারল্যান্ডসের। তবে ডাচদের ধারাবাহিক চাপ সামলে এবং দুবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া এই ড্র জাপানের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও জাপান শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের সমান ১০টি শট নেয়। এর মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুই গোল আদায় করে তারা। অন্যদিকে ডাচরা ছয়টি শট লক্ষ্যে রেখেও জয় তুলে নিতে পারেনি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফ গ্রুপের ম্যাচে সমতায় শেষ হয়েছে দুই দলের লড়াই। ম্যাচের চারটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। তৃতীয় মিনিটেই ডনিয়েল মালেনের শট থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির দৃঢ়তায় রক্ষা পায় দলটি। প্রথমদিকে নিজেদের অর্ধে ব্যস্ত থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পায় জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে আক্রমণের চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে দেয় ডাচ রক্ষণ।
২০ মিনিটের পরও নেদারল্যান্ডসের চাপ অব্যাহত থাকে। মালেন ও কোডি গাকপোর দুটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। অন্যদিকে জাপান অপেক্ষা করছিল নিজেদের সুযোগের। ২৮তম মিনিটে আয়াসে উয়েদা দুর্দান্ত এক পাস পেয়ে ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে আনলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরে হিরোকি ইতোর শটও লক্ষ্যে থাকেনি।
৩৩তম মিনিটে মালেনের আরেকটি আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন শোগো তানিগুচি। সেই কর্নার থেকে মিকি ফন ডে ফেনের শক্তিশালী হেড সুজুকির স্পর্শে দিক পরিবর্তন না করলে গোল হতে পারত। এরপর গাকপোর একটি শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে জাপানও পাল্টা হুমকি তৈরি করে। ৪৩তম মিনিটে তাকেফুসা কুবোর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। পরের মিনিটে দাইচি কামাদার লং পাস থেকে উয়েদা গোলের কাছে পৌঁছালেও ভার্জিল ফন ডাইকের চাপে সফল হতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে মালেনের ফ্রি-কিক সহজেই তালুবন্দি করেন সুজুকি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধে ৬৯ শতাংশ বলের দখল ছিল নেদারল্যান্ডসের। তারা পাঁচটি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। জাপান তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ডাচরা। ৫১তম মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্খের ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বলে নিখুঁত হেডে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক।
তবে জাপানের জবাব আসতে সময় লাগেনি। ৫৭তম মিনিটে তাকেফুসা কুবোর দুর্দান্ত ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো নিচু শটে সমতা ফেরান কেইতো নাকামুরা। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শট থেকেই গোল তুলে নেয় জাপান।
কিন্তু সাত মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল।
দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জাপান। ৬৭তম মিনিটে কুবোর দুর্দান্ত শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন বার্ট ফেরব্রুখেন। অপরদিকে ৭৩তম মিনিটে গাকপোর শট ঠেকিয়ে দেন সুজুকি।
ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে জাপান। ৮০ মিনিটে ইউকিনারি সুগাওয়ারার শট গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ৮৬তম মিনিটে আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণও ব্যর্থ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেড করেন দাইচি কামাদা। বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই ২-২ সমতায় ফেরে জাপান এবং উল্লাসে মেতে ওঠে তাদের সমর্থকেরা।
অতিরিক্ত সময়ে জয়ের জন্য শেষ চেষ্টা চালায় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু জাপানের সংগঠিত রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
স্কোরলাইন সমতা দেখালেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল নেদারল্যান্ডসের। তবে ডাচদের ধারাবাহিক চাপ সামলে এবং দুবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া এই ড্র জাপানের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও জাপান শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের সমান ১০টি শট নেয়। এর মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুই গোল আদায় করে তারা। অন্যদিকে ডাচরা ছয়টি শট লক্ষ্যে রেখেও জয় তুলে নিতে পারেনি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
