কিছু ব্যাংক থেকে এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা।
তিনি জানান, বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মন্তব্য এলেও বাস্তবতা হচ্ছে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বিদায়ী সরকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করে গিয়েছিল, বর্তমানে সেই স্কিমের আওতায় অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বিষয়টি নিয়ে নীতিগত একটি জটিলতাও রয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছে, অন্যদিকে একটি গোষ্ঠী সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, একজন রিকশাচালক থেকে শুরু করে অন্যান্য করদাতাদের দেওয়া করের অর্থ কতটা ব্যবহার করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ব্যাংকিং খাত কোনো সার্বিক সংকটে নেই; মূল সংকট পাঁচটি ব্যাংককে ঘিরে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকে সীমিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজস্ব খাত থেকে একসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা সরবরাহ করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাপী চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম, তবুও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশে তাদের সম্পদ জব্দের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং প্রায় ১০টি সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। কয়েকটি দেশে সংশ্লিষ্টদের সম্পদও ফ্রিজ করা হয়েছে।
গভর্নর জানান, বিষয়টি তদন্তে একটি যৌথ তদন্ত দলও কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু ছোটখাটো সাফল্য এসেছে এবং সীমিত পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করাও সম্ভব হয়েছে। তবে অর্থ পাচারকারীরা সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ সরিয়ে নেয় এবং জটিল লেনদেনের মাধ্যমে উৎস গোপন করে, ফলে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বড় ধরনের কোনো লিকুইডিটি সংকট তিনি দেখছেন না। তাই জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখতে পারে।
ডিজিটাল লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। এতে ভারতের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং নগদ অর্থের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
তিনি জানান, বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মন্তব্য এলেও বাস্তবতা হচ্ছে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বিদায়ী সরকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করে গিয়েছিল, বর্তমানে সেই স্কিমের আওতায় অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বিষয়টি নিয়ে নীতিগত একটি জটিলতাও রয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছে, অন্যদিকে একটি গোষ্ঠী সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, একজন রিকশাচালক থেকে শুরু করে অন্যান্য করদাতাদের দেওয়া করের অর্থ কতটা ব্যবহার করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ব্যাংকিং খাত কোনো সার্বিক সংকটে নেই; মূল সংকট পাঁচটি ব্যাংককে ঘিরে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকে সীমিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজস্ব খাত থেকে একসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা সরবরাহ করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাপী চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম, তবুও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশে তাদের সম্পদ জব্দের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং প্রায় ১০টি সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। কয়েকটি দেশে সংশ্লিষ্টদের সম্পদও ফ্রিজ করা হয়েছে।
গভর্নর জানান, বিষয়টি তদন্তে একটি যৌথ তদন্ত দলও কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু ছোটখাটো সাফল্য এসেছে এবং সীমিত পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করাও সম্ভব হয়েছে। তবে অর্থ পাচারকারীরা সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ সরিয়ে নেয় এবং জটিল লেনদেনের মাধ্যমে উৎস গোপন করে, ফলে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বড় ধরনের কোনো লিকুইডিটি সংকট তিনি দেখছেন না। তাই জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখতে পারে।
ডিজিটাল লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। এতে ভারতের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং নগদ অর্থের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
