জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনীতি এআই ও ডিজিটাল যুগের পথনকশা, বলছে গবেষণা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের উন্নয়ন কৌশল ও রাষ্ট্রনীতি বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়, বরং অপরিহার্য। 'বাংলাদেশ নীতি গবেষণা কেন্দ্র' থেকে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর ও দূরদর্শী তথ্য উঠে এসেছে। ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনীতি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে প্রাসঙ্গিকতা ও নীতি নির্দেশিকা’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন প্রযুক্তিবিদ ও নীতি উদ্ভাবক ইঞ্জি. জনি শাহিনুর আলম।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের গৃহীত মূল নীতি ও দর্শনকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত করে একটি 'স্মার্ট জিয়া মডেল' প্রণয়ন করা গেলে তা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।

গবেষণাপত্রে জিয়াউর রহমানের শাসনামলের নীতিগত সাফল্যকে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের জন্য একটি গাণিতিক ও পরিমাণগত সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যে দেখা যায়, তাঁর আমলে সক্রিয় সেনা সদস্য সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০,০০০-এ উন্নীত করার মাধ্যমে ৮০% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে সফল রূপান্তর ঘটে। একই সাথে, হাজারো কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের নেওয়া সৌদি আরবে পরীক্ষামূলক জনশক্তি রপ্তানির সিদ্ধান্তটি, যা আজ দেশের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। তৎকালীন ০.১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গবেষকের মতে, আজকের ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সিং মূলত জিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন দর্শনেরই একটি আধুনিক রূপান্তর, যার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সার সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে জিয়ার ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠন, কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (VDP) গঠনের মূল দর্শনের সাথে বর্তমান এআই যুগের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি চমৎকার সমান্তরাল তুলনা চিত্রায়িত করা হয়েছে। জিয়া যুগের সমুদ্রসীমা রক্ষা ও চেইন অব কমান্ডের ধারণাটি আজকের যুগে সামুদ্রিক সাইবার নজরদারি, AIS ট্র্যাকিং, ড্রোন পেট্রোলিং এবং ডিজিটাল সাইবার কমান্ড স্ট্রাকচারে রূপ নিয়েছে। একইভাবে, তৎকালীন বহুমুখী পররাষ্ট্র নীতি—যা পশ্চিম, ইসলামী বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখত, তা আজকের ডিজিটাল ভূ-রাজনীতিতেও সমান কার্যকর।
জিয়াউর রহমানের সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আজ 'BIMSTEC ডেটা শেয়ারিং'-এর মতো আঞ্চলিক ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশনে রূপ নিতে পারে। বৈশ্বিক প্রবণতা, জাতীয় চাহিদা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি
প্রভাব—এই চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে জিয়ার নীতিগুলোর একটি 'নীতি-প্রাসঙ্গিকতা সূচক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানবসম্পদ ও নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ ১০-এর মধ্যে ৯.০ স্কোরসহ সামগ্রিক গড় স্কোর এসেছে ৮.৮, যা একজন রাষ্ট্রনায়কের দূরদর্শিতার এক অসাধারণ প্রমাণ।

বর্তমান নীতি-নির্ধারকদের জন্য এই গবেষণায় বেশ কিছু যুগান্তকারী কৌশলগত নির্দেশিকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো জিয়াউর রহমানের যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি ‘ডিজিটাল স্কিলস ফোর্স’ গঠন করা, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষ তরুণকে AI ও ডেটা সায়েন্সে প্রশিক্ষিত করবে। পাশাপাশি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (REB) সফল মডেলে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে একটি 'রুরাল ডিজিটাল কানেক্টিভিটি কর্পোরেশন' প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে, দেশের সাইবার নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সাইবার রেসপন্স টিম গঠন এবং গ্লোবাল টেক কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার পাইপলাইন বা 'ডিজিটাল রেমিট্যান্স মডেল' তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের নীতি-দর্শনের মূল উপাদানগুলো—বিকেন্দ্রীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বহুমুখী কূটনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি—আজকের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়, বরং অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানের একটি ঐতিহাসিক উক্তি—“দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার একমাত্র লক্ষ্য”—স্মরণ করে গবেষক ইঞ্জি. জনি শাহিনুর আলম উল্লেখ করেন, আজ এই লক্ষ্য পূরণের প্রধান পথ হলো ডিজিটাল রূপান্তর, যার নিখুঁত নকশা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা শহীদ জিয়া চার দশক আগেই দেশের মাটিতে বুনে গিয়েছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের গৃহীত মূল নীতি ও দর্শনকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত করে একটি 'স্মার্ট জিয়া মডেল' প্রণয়ন করা গেলে তা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
গবেষণাপত্রে জিয়াউর রহমানের শাসনামলের নীতিগত সাফল্যকে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের জন্য একটি গাণিতিক ও পরিমাণগত সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যে দেখা যায়, তাঁর আমলে সক্রিয় সেনা সদস্য সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০,০০০-এ উন্নীত করার মাধ্যমে ৮০% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে সফল রূপান্তর ঘটে। একই সাথে, হাজারো কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের নেওয়া সৌদি আরবে পরীক্ষামূলক জনশক্তি রপ্তানির সিদ্ধান্তটি, যা আজ দেশের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। তৎকালীন ০.১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গবেষকের মতে, আজকের ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সিং মূলত জিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন দর্শনেরই একটি আধুনিক রূপান্তর, যার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সার সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে জিয়ার ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠন, কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (VDP) গঠনের মূল দর্শনের সাথে বর্তমান এআই যুগের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি চমৎকার সমান্তরাল তুলনা চিত্রায়িত করা হয়েছে। জিয়া যুগের সমুদ্রসীমা রক্ষা ও চেইন অব কমান্ডের ধারণাটি আজকের যুগে সামুদ্রিক সাইবার নজরদারি, AIS ট্র্যাকিং, ড্রোন পেট্রোলিং এবং ডিজিটাল সাইবার কমান্ড স্ট্রাকচারে রূপ নিয়েছে। একইভাবে, তৎকালীন বহুমুখী পররাষ্ট্র নীতি—যা পশ্চিম, ইসলামী বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখত, তা আজকের ডিজিটাল ভূ-রাজনীতিতেও সমান কার্যকর।
জিয়াউর রহমানের সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আজ 'BIMSTEC ডেটা শেয়ারিং'-এর মতো আঞ্চলিক ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশনে রূপ নিতে পারে। বৈশ্বিক প্রবণতা, জাতীয় চাহিদা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি
প্রভাব—এই চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে জিয়ার নীতিগুলোর একটি 'নীতি-প্রাসঙ্গিকতা সূচক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানবসম্পদ ও নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ ১০-এর মধ্যে ৯.০ স্কোরসহ সামগ্রিক গড় স্কোর এসেছে ৮.৮, যা একজন রাষ্ট্রনায়কের দূরদর্শিতার এক অসাধারণ প্রমাণ।
বর্তমান নীতি-নির্ধারকদের জন্য এই গবেষণায় বেশ কিছু যুগান্তকারী কৌশলগত নির্দেশিকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো জিয়াউর রহমানের যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি ‘ডিজিটাল স্কিলস ফোর্স’ গঠন করা, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষ তরুণকে AI ও ডেটা সায়েন্সে প্রশিক্ষিত করবে। পাশাপাশি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (REB) সফল মডেলে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে একটি 'রুরাল ডিজিটাল কানেক্টিভিটি কর্পোরেশন' প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে, দেশের সাইবার নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সাইবার রেসপন্স টিম গঠন এবং গ্লোবাল টেক কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার পাইপলাইন বা 'ডিজিটাল রেমিট্যান্স মডেল' তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের নীতি-দর্শনের মূল উপাদানগুলো—বিকেন্দ্রীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বহুমুখী কূটনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি—আজকের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়, বরং অপরিহার্য।
প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানের একটি ঐতিহাসিক উক্তি—“দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার একমাত্র লক্ষ্য”—স্মরণ করে গবেষক ইঞ্জি. জনি শাহিনুর আলম উল্লেখ করেন, আজ এই লক্ষ্য পূরণের প্রধান পথ হলো ডিজিটাল রূপান্তর, যার নিখুঁত নকশা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা শহীদ জিয়া চার দশক আগেই দেশের মাটিতে বুনে গিয়েছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
