ফুটবল মাঠে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে যা ঘটেছে, তা বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খলার উদাহরণ হয়ে থাকবে। ম্যাচজুড়ে মারামারি, উত্তেজনা, রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে আটটি লাল কার্ড। এসব ঘটনায় সেই ম্যাচে ফুটবলের সৌন্দর্য হারিয়ে আলোচনায় এখন লাল কার্ড বিতর্ক।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্রাজিলের ফোর্তালেজার অ্যারেনা কাস্তেলাও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র নারী ফুটবল দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ, কঠোর ট্যাকল এবং শারীরিক লড়াই ম্যাচটিকে ফুটবলের চেয়ে যেন হাতাহাতির লড়াইয়ে পরিণত করেছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থার ইলিয়াস রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমে সতর্কবার্তা পান। পরে ৭৭ মিনিটে বল লাথি মেরে দূরে পাঠানোর ঘটনায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। একই সময় তার কোচিং স্টাফের আরও তিন সদস্যকেও বহিষ্কার করেন ম্যাচের রেফারি পাওলা সেবোলাদা লোপেজ।
মাঠের উত্তেজনা এরপর ছড়িয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের মধ্যেও। অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বিআ জানেরাত্তো যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। কিছুক্ষণ পর ডিফেন্ডার তার্সিয়ানে সোফিয়া উইলসনের দিকে আঘাত করার চেষ্টা করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেরোলিন এবং ব্যঙ্গাত্মকভাবে হাততালি দেওয়ার অভিযোগে লুদমিলাকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে প্রবেশ করে দাঙ্গা পুলিশ।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৬৩ মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড সোফিয়া উইলসনের নেওয়া শট ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ইসাবেলা শাগাসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ এমা হেইস বলেন, তার কোচিং ক্যারিয়ারে এমন ম্যাচ তিনি আগে দেখেননি। আটটি লাল কার্ডের ঘটনা ছিল অবিশ্বাস্য। খেলা এতবার বন্ধ হয়েছে যে মাঝে মাঝে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলের মাটিতে এসে তাদের হারানো সবসময়ই কঠিন। তবে আগামী নারী বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশা করেন তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার লিন্ডসে হিপসও ম্যাচের পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, ফুটবল সুন্দর একটি খেলা, কিন্তু এই ম্যাচে সেই সৌন্দর্যের চেয়ে বিতর্কই বেশি চোখে পড়েছে।
ব্রাজিলের খেলোয়াড়রাও রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিডফিল্ডার আনহেলিনা ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রেফারিংকে ‘চরম লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ভিএআর এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি বার্তা হয়ে এসেছে। আগামী নারী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ভেন্যুতে প্রতিকূল পরিবেশে খেলে জয় তুলে নেওয়ায় দলটির আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কোচ এমা হেইসের মতে, বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয় এবং তার দল সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে।
ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথ বরাবরই উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তবে ফোর্তালেজার এই ম্যাচটি ফলাফলের জন্য নয়, বরং মাঠের অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা, আটটি লাল কার্ড এবং রেফারিং বিতর্কের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্রাজিলের ফোর্তালেজার অ্যারেনা কাস্তেলাও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র নারী ফুটবল দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষ, কঠোর ট্যাকল এবং শারীরিক লড়াই ম্যাচটিকে ফুটবলের চেয়ে যেন হাতাহাতির লড়াইয়ে পরিণত করেছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থার ইলিয়াস রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমে সতর্কবার্তা পান। পরে ৭৭ মিনিটে বল লাথি মেরে দূরে পাঠানোর ঘটনায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। একই সময় তার কোচিং স্টাফের আরও তিন সদস্যকেও বহিষ্কার করেন ম্যাচের রেফারি পাওলা সেবোলাদা লোপেজ।
মাঠের উত্তেজনা এরপর ছড়িয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের মধ্যেও। অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বিআ জানেরাত্তো যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। কিছুক্ষণ পর ডিফেন্ডার তার্সিয়ানে সোফিয়া উইলসনের দিকে আঘাত করার চেষ্টা করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেরোলিন এবং ব্যঙ্গাত্মকভাবে হাততালি দেওয়ার অভিযোগে লুদমিলাকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে প্রবেশ করে দাঙ্গা পুলিশ।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৬৩ মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড সোফিয়া উইলসনের নেওয়া শট ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ইসাবেলা শাগাসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ এমা হেইস বলেন, তার কোচিং ক্যারিয়ারে এমন ম্যাচ তিনি আগে দেখেননি। আটটি লাল কার্ডের ঘটনা ছিল অবিশ্বাস্য। খেলা এতবার বন্ধ হয়েছে যে মাঝে মাঝে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলের মাটিতে এসে তাদের হারানো সবসময়ই কঠিন। তবে আগামী নারী বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশা করেন তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার লিন্ডসে হিপসও ম্যাচের পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, ফুটবল সুন্দর একটি খেলা, কিন্তু এই ম্যাচে সেই সৌন্দর্যের চেয়ে বিতর্কই বেশি চোখে পড়েছে।
ব্রাজিলের খেলোয়াড়রাও রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিডফিল্ডার আনহেলিনা ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রেফারিংকে ‘চরম লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ভিএআর এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি বার্তা হয়ে এসেছে। আগামী নারী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ভেন্যুতে প্রতিকূল পরিবেশে খেলে জয় তুলে নেওয়ায় দলটির আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কোচ এমা হেইসের মতে, বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয় এবং তার দল সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে।
ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথ বরাবরই উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তবে ফোর্তালেজার এই ম্যাচটি ফলাফলের জন্য নয়, বরং মাঠের অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা, আটটি লাল কার্ড এবং রেফারিং বিতর্কের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
