ATN
শিরোনাম
  •  

নাসির-তামিমা দম্পতির খালাস, ৫ বছরের আলোচিত মামলার অবসান

         
নাসির-তামিমা দম্পতির খালাস, ৫ বছরের আলোচিত মামলার অবসান

নাসির-তামিমা দম্পতির খালাস, পাঁচ বছরের আলোচিত মামলার অবসান

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়েই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ১০ জুন দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান নাসির ও তামিমার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেন।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসান ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে হয়। তাদের আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে তার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারেন রাকিব।

বাদীর অভিযোগ ছিল, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। একই সঙ্গে নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় রাকিব ও তার কন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরে একই বছরের ৬ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন নাসির ও তামিমার আইনজীবী কাজী নজিব্যুল্লাহ হিরু। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ করে মামলার বিচার চলার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সুমি আক্তারের অব্যাহতি বহাল রাখেন।

মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৮ এপ্রিল তামিমার সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৬ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়।

রায় ঘোষণার আগে বাদী রাকিব হাসান বলেন, জোর করে তো একসঙ্গে থাকা যায় না। সে (তামিমা) আমার শত্রু নয়। তবে কেউ যেন ইচ্ছেমতো অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে যেতে না পারে, সে কারণেই পাঁচ বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আদালতের ওপর আস্থা রেখেই মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচার কার্যক্রম চলে। বিভিন্ন বিষয়ে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে রিভিশন করলেও সেগুলোর ফল তাদের পক্ষে যায়নি। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এ ধরনের প্রবণতা কমে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের আগে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাদের উপস্থাপিত যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে আসামিরা খালাস পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ