ATN
শিরোনাম
  •  

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ১৯

         
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ১৯

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ১৯

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রিখটার স্কেলে তীব্র এ ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রবল কম্পনে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ‘জলিবি’র একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদরাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস শহরে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ জন। তবে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতদের সংখ্যা যাচাই-বাছাই করছে। সাধারণত পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য সমন্বয়ের পর জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা পরিষদ আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে থাকে।

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত জেনারেল সান্তোস শহরটি ফিলিপাইনের ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এটি বিশ্বখ্যাত বক্সার ও রাজনীতিবিদ ম্যানি প্যাকিয়াওয়ের নিজ শহর। ভূমিকম্পের পর সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়।

মূল ভূমিকম্পের পর ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ১৩০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এ দুর্যোগ আঘাত হানায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্লাস স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার উদ্ধারকাজে সক্রিয় রয়েছে। মিন্দানাওয়ের মানুষকে কোনোভাবেই একা ফেলে রাখা হবে না।”

দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সকালের সমাবেশ চলাকালে তীব্র কম্পনে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা মাটিতে বসে চিৎকার করছে। তাদের ঠিক পেছনে একটি টিনের ছাউনি ধসে পড়লেও সৌভাগ্যক্রমে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।

ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। জাপানও তাদের উপকূলে এক মিটার উচ্চতার সুনামির সতর্কতা জারি করে।

তবে পরবর্তীতে জাপানের ওকিনাওয়ায় কয়েক সেন্টিমিটার এবং দূরবর্তী ওগাসাওয়ারা দ্বীপে ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং ফিলিপাইনের বিভিন্ন উপকূলে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ দেখা গেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ভূতাত্ত্বিকভাবে অতি সক্রিয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ভিসায়াস অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ